মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অস্বাভাবিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে জাতিসংঘকে ঘিরে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা এবং কূটনৈতিক পদত্যাগ, অন্যদিকে ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষ হামলা বৃদ্ধি, মার্কিন হুমকি এবং সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপড়েন। একই সময়ে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের বিস্তার, তেল অবকাঠামোতে হামলা এবং উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ইঙ্গিত, যা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকে বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
জাতিসংঘ থেকে কূটনীতিকের পদত্যাগ ইরানে পারমাণবিক হামলার শঙ্কা জাতিসংঘের এক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকের বিস্ফোরক দাবিতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাফা অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘ বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ সাক্ষী হয়ে থাকতে চান না জানিয়ে তিনি তার দীর্ঘ ১২ বছরের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে মোহাম্মদ সাফা জানান, তেহরানের মতো প্রায় এক কোটি মানুষের শহরে পারমাণবিক হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনও অন্ধকারে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ যখন ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমি এই তথ্যের সত্যতা ফাঁস করার জন্য আমার কূটনৈতিক জীবন বিসর্জন দিচ্ছি। আমি চাই না এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশীদার বা সাক্ষী হতে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ বা পারমাণবিক শীতকাল প্রতিরোধ করার এটিই আমার শেষ চেষ্টা। সাফা তার পদত্যাগপত্রে গত তিন বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব একটি ‘শক্তিশালী লবি’র স্বার্থ হাসিল করতে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে একটি পরিকল্পিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালিয়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে।
সাফার মতে, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা গাজায় যা ঘটছে তাকে ‘গণহত্যা’ বলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং লেবাননের যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নিধনকেও আড়াল করছেন।
ইরানের নৌ-কমান্ডারের মৃত্যু স্বীকার : ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী আইআরজিসি নৌ-কমান্ডার আলিরেজা তাঙসিরির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। হুরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই কমান্ডারকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল।
ইরানের বিবৃতিতে জানানো হয়, হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঙসিরি দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন এবং অতীতেও একাধিকবার হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। তার মৃত্যু হুরমুজ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন : ইরান ও লেবানন থেকে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের হাইফা বন্দরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও শিল্প অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায়ও বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। হামলাটি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘর্ষকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ওমান উপসাগরও এখন আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে : ইরান হুরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ওমান উপসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের সামরিক বাহিনীর হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির নৌবাহিনীর একজন কমান্ডার। ওই অঞ্চলে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানি ওই কমান্ডার বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন সৈন্যদের তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসার অপেক্ষায় রয়েছে। সীমার মধ্যে এলেই উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতা ও সামরিক মহড়ার মুখে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তেহরান যদি অবিলম্বে হুরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলকূপ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপসহ দেশটির বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া
এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হবে।
ট্রাম্প লিখেছেন, অনেক অগ্রগতি হয়েছে; কিন্তু যদি কোনো কারণে দ্রুতই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়; যা সম্ভবত হবে এবং যদি হুরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ‘বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত’ করে দেওয়া না হয়, তা হলে আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খারগ দ্বীপ বোমা মেরে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে সেখানে আমাদের এই চমৎকার ‘অবস্থান’ শেষ করব।
ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পন্ন হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপের মাধ্যমে। এই তেলের বড় অংশ চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারে যায়। আয়তনে মাত্র ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪-৫ কিলোমিটার প্রস্থের এই ক্ষুদ্র দ্বীপটিতে রয়েছে বিশাল সব অবকাঠামো।
যার মধ্যে তেলের বিশাল মজুদ ট্যাঙ্ক, পাইপলাইন এবং সমুদ্রতীরবর্তী লোডিং টার্মিনাল অন্যতম। গভীর সমুদ্রবন্দরের সুবিধা থাকায় দ্বীপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৩ থেকে ১৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বড় বড় ট্যাঙ্কারে লোড করা সম্ভব হয়।
রোববার (২৯ মার্চ) ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং ইঙ্গিত দেন, মার্কিন সৈন্যরা ইরানের ওই রফতানি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ওই হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সৌদিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিমান ধ্বংস করে দিল ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে হামলা চালিয়ে বিমানটি ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। মার্কিনিদের কাছে এ বিমান মাত্র ১৬টি ছিল। বিশেষ রাডার থাকা বিমানটি আগাম সতর্কতা দেওয়া ও আকাশ নিয়ন্ত্রণের কাজ করত।
সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
গত শুক্রবার সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। এ সময় এই বিমানটিকে টার্গেট করা হয়। ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১২ সেনাও আহত হন। এ ছাড়া একই হামলায় কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমানও ধ্বংস হয়। অনলাইনে প্রকাশিত নতুন ফুটেজে দেখা গেছে, বোয়িং ই-৩ সেনট্রি মডেলের বিমানটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
কয়েকজন আরব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একাধিক রিফুয়েলিং বিমানের সঙ্গে এই বিশেষ বিমানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিমান উন্নত প্রযুক্তির রাডার ব্যবহার করে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে থাকা যুদ্ধবিমান ও মিসাইল শনাক্ত করতে পারে। এতে করে আকাশ থেকে সেনা কমান্ডারদের এটি যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক চিত্র দিতে পারে। এটি ধ্বংসের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ মডেলের মাত্র ১৬টি বিমান ছিল। কয়েক দশক আগে যেটির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০টি।
সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ই-৩ সেন্ট্রি ফ্লিটের বিমান সহজে রিপ্লেস করা যায় না। আর যদিও রিপ্লেস করতে হয় তা হলে আনতে হবে ই-৭ ওয়েজটেইল বিমান। যেগুলোর একেকটির দাম ৭০০ মিলিয়ন ডলার।
ইসরাইলের সংসদ ‘নেসেট’ সোমবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা খাতে সর্বাধিক অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এটিকে মধ্যপ্রাচ্যকে পুনর্গঠন করার পথে একটি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ এই বাজেটকে কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এটি একাধিক ফ্রন্টে ধারাবাহিক যুদ্ধ পরিচালনার অভিপ্রায় প্রকাশ করে।
টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, সোমবার বাজেট পাস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগাম নির্বাচনের ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম হয়েছেন। আইনি বিধান অনুযায়ী মঙ্গলবারের মধ্যে বাজেট পাস না হলে সংসদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
বিরোধীদের দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার বক্তব্য এবং ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাইরেনের কারণে অধিবেশন একাধিকবার বাধাগ্রস্ত হয়। সাইরেনের কারণে সংসদ সদস্যরা নিরাপদ বিকল্প কক্ষ থেকে ভোট দেন। প্রায় ২৭১ বিলিয়ন ডলার (৮৫০.৬ বিলিয়ন শেকেল) মূল্যের এই বাজেটের পক্ষে ৬২ ভোট এবং বিপক্ষে ৫৫ ভোট পড়ে।
অনুমোদিত বাজেটকে অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ ‘জনকল্যাণ ও জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসে সহায়ক’ বলে বর্ণনা করেছেন। বিপরীতে বিরোধীদলীয় নেতা ও ইয়েশ আতিদ দলের প্রধান ইয়ার লাপিদ একে রাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল (৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্মোট্রিচ এই ব্যয়কে যুদ্ধকালে বাজেটের মূল অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ইসরাইলের ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কাঠামো নতুনভাবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে। তার দাবি, এই বাজেট দেশকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নেবে।
পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন প্রতিরক্ষা বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বেশি। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরাইল তার প্রতিরক্ষাব্যয় ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। বর্তমানে ইরান ছাড়াও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে বৈরুত ও সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা ও স্থল অভিযান অন্তর্ভুক্ত।
কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আলজাজিরাকে বলেন, এই উচ্চ বরাদ্দ ইসরাইলের একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলকে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে, যা যুদ্ধকালে আরও বৃদ্ধি পায়।
তার মতে, বর্তমান বাজেট ইঙ্গিত দেয় যে ইসরাইল যুদ্ধের শুরু কিংবা মধ্যপর্যায়ে অবস্থান করছে।
এর মানে হলো, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে শুরু করে ইরান পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি বা ধারাবাহিক সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে ইসরাইল। যার মাধ্যমে তারা বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন করতে চায়, বলেন এলমাসরি।
পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ : প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় টিকে থাকতে কট্টর রক্ষণশীল জোটের ওপর নির্ভরশীল। বাজেটে তাদের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠী তাদের নিয়ন্ত্রিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পাবে।
এই কট্টর রক্ষণশীল জোট পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বড় সমর্থক। বসতি স্থাপন বিরোধী সংগঠন ‘পিস নাউ’ জানিয়েছে, বসতি স্থাপনের জন্য বরাদ্দ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
পিস নাউয়ের প্রতিবেদনে এই পদক্ষেপকে সরকারের নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য সরকারি অর্থের অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ৪ ডিসেম্বর সরকার পশ্চিম তীরে বসতি উন্নয়নে পাঁচ বছরে ৮৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ের অনুমোদন দেয়, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়।