ফিলিস্তিনিদের বৈধভাবে মৃত্যু দিতে ইসরায়েলে ‘মৃত্যুদণ্ড আইন’ পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন পাস করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগের

2026-03-31T12:27:12+00:00
2026-03-31T12:27:12+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ফিলিস্তিনিদের বৈধভাবে মৃত্যু দিতে ইসরায়েলে ‘মৃত্যুদণ্ড আইন’ পাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম 
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ‘মৃত্যুদণ্ড আইন’ পাস। সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন পাস করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। 

এই আইনের আওতায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার পরিচালনা করে মৃত্যুদণ্ডকে একটি ‘ডিফল্ট’ বা সাধারণ শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হবে, তাদের ক্ষেত্রে এই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। সমালোচকদের মতে, এতে বিচার প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বাড়ার পাশাপাশি শাস্তি নির্ধারণে পক্ষপাতিত্বের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই আইন একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী—ফিলিস্তিনিদের—বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের শামিল। ফিলিস্তিনি আইনি সংস্থা ‘আদালাহ’-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এই আইন বাস্তবে এমন ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পথ খুলে দেয়, যারা অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি নাও হতে পারেন। তাদের মতে, এটি কার্যত রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর আইনি বৈধতা দেওয়ার মতো।

সংস্থাটির আইন বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, আইনটি মৌলিক সমতা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যবিরোধী নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে তারা এটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। ইতোমধ্যে এই আইন চ্যালেঞ্জ করে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইসরায়েলের অন্যতম শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল’ও এই আইনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক পিটিশন দায়ের করেছে। তাদের যুক্তি হলো, পশ্চিম তীর ইসরায়েলের স্বীকৃত সার্বভৌম ভূখণ্ড নয়; ফলে সেখানে এ ধরনের আইন প্রণয়নের এখতিয়ার নেসেটের নেই। তারা আরও বলেছে, এই আইন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং ন্যায্য বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে, যা ইসরায়েলের নিজস্ব মৌলিক আইনগুলোর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।


নতুন আইনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর ও গোপনীয় করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা, তাদের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ সীমিত করা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া জনসমক্ষে না আনার বিধান। এছাড়া ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতিও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

আইনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা হলো, এটি কার্যত দ্বৈত বিচারব্যবস্থা তৈরি করে। একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই শাস্তি প্রযোজ্য নয়, অথচ ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিচার ব্যবস্থায় বৈষম্য এবং জাতিগত পক্ষপাতের সুস্পষ্ট উদাহরণ।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর একটি অধিকৃত অঞ্চল হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেই হিসেবে কোনো দখলদার রাষ্ট্র সেখানে নিজের অভ্যন্তরীণ আইন প্রয়োগ করতে পারে না। এই প্রেক্ষাপটে নতুন আইনটি আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আরও আশঙ্কা, এই পদক্ষেপটি কেবল একটি শাস্তিমূলক আইন নয়; বরং এটি পশ্চিম তীরকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার একটি ‘ডি ফ্যাক্টো’ বা অঘোষিত কৌশলের অংশ হতে পারে। অর্থাৎ, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করার চেষ্টা চলছে বলে তারা মনে করছেন।

এই আইনটি শুধু মানবাধিকার নয়, আন্তর্জাতিক আইন, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়ার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন।


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ফিলিস্তিন  ইসরায়েল  মৃত্যুদণ্ড আইন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: