যুদ্ধের সময় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকে খাবার, আশ্রয় কিংবা চিকিৎসা। কিন্তু কিছু প্রয়োজন থাকে, যা প্রায়ই চোখ এড়িয়ে যায়। এই যেমন নিরাপদ স্যানিটেশন। লেবাননের চলমান মানবিক সংকটে সেই অবহেলিত প্রয়োজনকেই সামনে এনেছে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
বাস্তুচ্যুত নারী ও কিশোরীদের জন্য গোসলখানা ও শৌচাগার স্থাপন করে তাদের দৈনন্দিন জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে সামান্য স্বস্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা। আর এই প্রচেষ্টার নেপথ্যে কাজ করছেন লেবানিজ সেলিব্রিটি মডেল, ইনফ্লুয়েন্সার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নূর আরিদা।
ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল জগতে তিনি সুপরিচিত মুখ আরিদা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ম্যাগাজিনের সঙ্গে কাজ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বড় পরিমাণের অনুসারী রয়েছে, যেখানে তিনি ফ্যাশনের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক ইস্যুতেও সরব থাকেন।
এই জনপ্রিয়তাকেই কাজে লাগিয়ে তিনি ‘সোরবে’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানবিক উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন।
বর্তমান সংকটে তিনি নিজের সেলিব্রিটি অবস্থানকে ব্যবহার করে বাস্তুচ্যুত নারী ও শিশুদের সহায়তায় সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। সোররের লক্ষ্য খুব সাধারণ, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তুচ্যুত নারী ও মেয়েদের জন্য নিরাপদ গোসলখানা ও শৌচাগার নিশ্চিত করা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে নারীরা প্রায়ই দ্বিগুণ ঝুঁকির মুখে থাকেন। পর্যাপ্ত স্যানিটেশন না থাকলে তারা হয়রানি, সহিংসতা কিংবা মানসিক চাপে পড়তে পারেন। ফলে একটি সাধারণ শৌচাগার বা গোসলখানা হয়ে ওঠে তাদের জন্য নিরাপত্তার প্রতীক।
এই বাস্তবতা থেকেই সোরবে তাদের উদ্যোগ শুরু করে। লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা এএনইআরএ এবং লেবানিজ রেড ক্রস। তাদের সহায়তায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে আলাদা গোসলখানা ও শৌচাগার; যেখানে নারীরা নিরাপদে, ব্যক্তিগতভাবে এসব ব্যবহার করতে পারছেন।
নূর আরিদা বলেন, যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নারী ও শিশুরা।
‘পুরুষদের তৈরি করা যুদ্ধের শিকার হচ্ছে নারীরা, এই বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে,’ বলেন তিনি। তার মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং এটি একটি বার্তা যে, যুদ্ধের মধ্যেও নারীদের মর্যাদা ও স্বাচ্ছন্দ্যের অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রভাব। বাইরে থেকে এটি ছোট একটি উদ্যোগ মনে হলেও বাস্তবে এর প্রভাব গভীর। একটি নিরাপদ শৌচাগার মানে শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নয় এটি মানসিক স্বস্তি, আত্মমর্যাদা এবং নিরাপত্তার অনুভূতিও এনে দেয়। যুদ্ধের মধ্যে যখন সবকিছু অনিশ্চিত, তখন এই ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগই মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি ফিরিয়ে আনে।