ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘ফাঁসির ফাঁদ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনীতিতে নতুন করে ঘি ঢেলেছে ইসরাইলের বিতর্কিত ‘মৃত্যুদণ্ড আইন’। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে প্রণীত এই আইনটি

2026-04-01T03:40:51+00:00
2026-04-01T03:40:51+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘ফাঁসির ফাঁদ’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনীতিতে নতুন করে ঘি ঢেলেছে ইসরাইলের বিতর্কিত ‘মৃত্যুদণ্ড আইন’। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে প্রণীত এই আইনটি বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আইনি বৈধতা’ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিশ্বনেতারা একে বর্ণনা করছেন আধুনিক সভ্যতায় এক ‘ভয়াবহ পশ্চাদগমন’ হিসেবে। 

গাজায় চলমান ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের মধ্যেই ইসরাইলি পার্লামেন্টের এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

সোমবার ইসরাইলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ পাস হওয়া এই আইন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরের কোনো ফিলিস্তিনি যদি ইসরাইলি নাগরিকদের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার সাজা হবে সরাসরি ফাঁসি। কট্টর ডানপন্থি ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই আইনের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন। 

বিলটি ৬২-৪৮ ভোটে পাস হওয়ার পর তাকে সংসদ কক্ষেই শ্যাম্পেন দিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আইন প্রত্যাহারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বেন-গভির সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।’ 

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যারা আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেই সব মানুষকে বলছি আমরা ভয় পাই না, আমরা মাথা নত করব না।’

গাজায় ইসরাইলের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের আবহে পশ্চিম তীরে যখন ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতারের ঘটনা বহুগুণ বেড়ে গেছে, ঠিক তখনই এই আইনটি আনা হলো। 

এদিকে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরাইল’ জানিয়েছে, তারা এই আইনের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। মৃত্যুদণ্ড আইনের বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্বনেতারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো : 

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ : ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আইনকে একটি ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। মন্ত্রণালয়টি জানায়, ‘এই আইনটি আবারও ইসরাইলি ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার আসল চেহারা উন্মোচিত করেছে, যা আইনি আবরণেরইসরাইলের মৃত্যুদণ্ড আইনের নেপথ্যে কী আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে চায়।’

হামাস : ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এই আইনকে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে আখ্যা দিয়েছে যা ইসরাইলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে। 

এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে দখলদার ইসরাইলি নেতারা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক রীতিনীতির তোয়াক্কা করেন না।’ তারা জাতিসংঘ ও রেডক্রসকে ইসরাইলি ‘নৃশংসতা’ থেকে বন্দিদের রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

মুস্তফা বারঘুতি : ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ-এর সাধারণ সম্পাদক মুস্তফা বারঘুতি সতর্ক করে বলেছেন যে, এই আইনটি মূলত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দি ও কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করবে। 

তিনি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘এমন অন্যায্য ও অমানবিক আইন প্রস্তাব করা ইসরাইলি ব্যবস্থার ভেতরে ফ্যাসিবাদী পরিবর্তনের গভীরতা প্রতিফলিত করে।’

ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস : গাজাভিত্তিক এই সংস্থাটি জানিয়েছে, এই আইনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা কেবল অপরাধীদের দায়মুক্তিকেই আরও গভীর করবে। 

জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস : ফিলিস্তিনে অবস্থিত জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস ইসরাইলকে অবিলম্বে এই ‘বৈষম্যমূলক মৃত্যুদণ্ড আইন’ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। 

তারা জানায়, ‘জাতিসংঘ সব পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে। এই আইনটি বর্ণবিদ্বেষ ও বর্ণবাদকে আরও শক্তিশালী করবে কারণ এটি শুধুমাত্র পশ্চিম তীর ও ইসরাইলের ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগ করা হবে।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিলিস্তিনি পুরুষদের ওপর অমানবিক আচরণ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল : বিশ্বখ্যাত এই মানবাধিকার গোষ্ঠী এই আইনকে ‘নৃশংসতা, বৈষম্য এবং মানবাধিকারের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ’ বলে বর্ণনা করেছে। 

সংস্থার গবেষণা পরিচালক এরিকা গুয়েভারা-রোসাস বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে আমরা ফিলিস্তিনিদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি আশঙ্কাজনক ধরন দেখে আসছি, যেখানে অপরাধীরা প্রায় পুরোপুরি দায়মুক্তি ভোগ করে। এই নতুন আইনটি সেই নীতিরই চূড়ান্ত রূপ।’

কাউন্সিল অব ইউরোপ : সংস্থাটির মহাসচিব অ্যালেইন বারসেট এই আইনকে ‘মারাত্মক পশ্চাদগমন’ বলে অভিহিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড একটি সেকেলে আইনি ব্যবস্থা যা সমসাময়িক মানবাধিকারের মানের সঙ্গে বেমানান।’ ইসরাইল এই কাউন্সিলের বেশকিছু কনভেনশনের অংশীদার হওয়ায় তারা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলেও জানান তিনি।

আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি : আয়ারল্যান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে এই বিলের বৈষম্যমূলক প্রকৃতি নিয়ে আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।’ তিনি ইসরাইলি সরকারকে এই আইন বাস্তবায়ন না করার আহ্বান জানান।


  বিষয়:   মধ্যপ্রাচ্য  ইসরাইল  মৃত্যুদণ্ড  আইন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: