মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ উল্লেখ করে এ জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) ব্রিটিশ গণমাধ্যম টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট থেকে বের হয়ে আসার এমন ইঙ্গিত দেন তিনি।
সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণ ঠেকাতে প্রায় সাত দশক আগে ইউরোপে ন্যাটো গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
জানা যায়, ইরান যুদ্ধে ন্যাটোকে পাশে না পাওয়ায় এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
যদিও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে মিত্রদের সঙ্গে এ যুদ্ধের পরিকল্পনা বা এর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আগে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি।
ন্যাটোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি বলব ন্যাটো থেকে বের হয়ে যাওয়া পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে। কেননা ন্যাটোর বিষয়ে আমি কখনোই খুব একটা আশাবাদী ছিলাম না। আমি সবসময় জানতাম তারা একটি "কাগুজে বাঘ"। আর ভ্লাদিমির পুতিনও সেটি ভালো করেই জানেন।
তবে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিতে হলে বা সদস্যপদ স্থগিত করতে হলে ট্রাম্পকে মার্কিন সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ‘পরামর্শ ও সম্মতি’ প্রয়োজন।
টেলিগ্রাফের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, তিনি ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধকে একই পাল্লায় মাপেন।
তিনি বলেন, ন্যাটো মিত্ররা ইরান যুদ্ধে যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে আমি খুব একটা জোর দেইনি। কারণ আমি মনে করেছিলাম এটি এমনিতেই আসবে।
তিনি আরও বলেন. আমরা সবসময় তাদের পাশে ছিলাম, এমনকি ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও। ইউক্রেনের পাশে থাকা আমাদের জন্যে ছিল একটি পরীক্ষা; তবুও আমরা তাদের পাশে ছিলাম। কিন্তু আমরা তাদের পাশে পাইনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য ন্যাটোর প্রতি ‘পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
তিনি ন্যাটোকে ‘বিশ্বের দেখা এ যাবৎকালের সবচেয়ে কার্যকর সামরিক জোট’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
সময়ের আলো/আরবিএন