ইরানের তেল ‘দখল’ করতে চায় ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের তেল দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা

2026-04-01T23:48:42+00:00
2026-04-01T23:49:12+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের তেল ‘দখল’ করতে চায় ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম  আপডেট: ০১.০৪.২০২৬ ১১:৪৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের তেল দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ নয় এবং এর পরিণতি হতে পারে ব্যাপক ও জটিল।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের তেল দখল করা তার অগ্রাধিকার। 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে ইরানের তেলক্ষেত্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে। 

উল্লেখ্য, বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে ইরানের খারগ দ্বীপ। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের তেল রফতানির কেন্দ্রবিন্দু, যেখান থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রফতানি হয়।

তবে দ্বীপটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রয়েছে। ফলে সেখানে সামরিক অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাসের মজুদ রয়েছে। 

দেশটির প্রমাণিত তেলের পরিমাণ প্রায় ১৫৭ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বৈশ্বিক মজুদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ওপেক-ভুক্ত দেশ হিসেবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং প্রতিদিন প্রায় ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র খারগ দ্বীপ দখল করলেই ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কারণ তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন ও শোধনাগার মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত। ফলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হলে কার্যত পুরো ইরান দখল করতে হবে যা প্রায় অসম্ভব ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

এছাড়া সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইরানের প্রতিরোধ, গেরিলা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল দখলের চেষ্টা করে, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। একদিকে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অর্থনীতিতে তেল খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ফলে এই খাতে বড় ধরনের আঘাত দেশটির অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে পারে, তবে একই সঙ্গে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়াবে।

ইতিহাস বলছে, ইরানের তেল নিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ নতুন নয়। 

১৯৫৩ সালে মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ সরকারের পতনের পেছনে পশ্চিমা শক্তির ভূমিকা ছিল, যা আজও ইরান-পশ্চিম সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে।

সব মিলিয়ে, ইরানের তেল দখলের প্রশ্নটি কেবল সামরিক নয় এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল একটি বিষয়। 

বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ নিলে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   মধ্যপ্রাচ্য  সংঘাত  ইরান  তেল  মার্কিন  প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড  ট্রাম্প 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: