১১শ কুইন্টাল মধু ও ৬শ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সারাদেশ

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বুধবার সুন্দরবনে মধু আহরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পাশাপাশি জলদস্যু নির্মূলে বিশেষ

2026-04-02T02:50:25+00:00
2026-04-02T02:50:25+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
১১শ কুইন্টাল মধু ও ৬শ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা
সুন্দরবনে মধু আহরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫০ এএম   (ভিজিট : ২৬)
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বুধবার সুন্দরবনে মধু আহরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পাশাপাশি জলদস্যু নির্মূলে বিশেষ অভিযানের উদ্বোধন করেছেন। বৈধভাবে সুন্দবনে যাতায়াতকারী বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই বন রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকাও নিরাপদ রাখা আমাদের দায়িত্ব। মৌয়ালরা যেন ঝুঁকিমুক্তভাবে মধু সংগ্রহ করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বুধবার সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনে সুন্দরবনে চলতি বছরের মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা থেকে স্পিড বোটে তিনি সাতক্ষীরা সুন্দরবনসংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট ঘাটে পৌঁছান। এ সময় বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানান। 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবনের মধু একটি একটি ইউনিক জিনিসি, এর সুনাম নষ্ট করবেন না। মধুতে যেন ভেজাল মিশানো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যারা মধু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আগে তাদের সৎ হতে হবে। শিক্ষিত বেকার যুবকরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে মধুর ব্রান্ডিং করে স্বাবলম্বী হতে পারে। তবে তার আগে সুন্দরবনের মধুর প্রতি আস্থা তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া সুন্দরবন বন্ধের সময়ে জেলেরা যেন সরকারি সহায়তা পায় সেদিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি তিনি বনজীবীদের জেলে কোটায় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

যদিও পর্যটন শিল্প নিয়ে তিনি বলেন, পর্যটন বিকাশে কাজ করতে হলে আগে স্থানীয়দের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। পর্যটকরা আসার আগে জলদস্যুতা মুক্ত করা না হলে পর্যটকরা ভীত হলে আসতে অনাগ্রহ দেখাবে।

সভায় অন্য বক্তারা জানান, সেই ১৮৬০ সাল থেকে মধু সংগ্রহ চলছে। অপরিপক্ব মধু যেমন সংগ্রহ করা যাবে না তেমনি মধুর ড্রামে যেন লবণ পানি প্রবেশ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জিআই স্বীকৃতি লাভ করায় তার গুণগত মান রক্ষার পাশাপাশি মধুতে যেন ভেজাল না মিশানো হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

এছাড়া সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটানোর জন্য তারা প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করেন। উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী মৌয়ালদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন। এ সময় মৌয়ালরা তাদের নানা সমস্যা, বিশেষ করে বাঘের আক্রমণ, বনদস্যুদের ভয় ও নিরাপত্তা সংকটের বিষয় তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন ও এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনে মৌয়াল, বাওয়ালি ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হবে। বনদস্যুদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও বেগবান করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান কার্যক্রমের সূচনা করেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে অচিরেই দস্যুমুক্ত করা হবে। এ ছাড়া জলদস্যুদের সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলদের বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে সুন্দরবনে তৎপর জলদস্যুদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যা মধু সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের আগে বিভিন্ন বাহিনীকে সরবরাহ করা হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে মধু আহরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, র‌্যাব সিও লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক রহমতউল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আব্দুল ওয়াহেদ, সোলায়মান কবির।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন বিভাগের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিগত ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে মধু আহরণের জন্য ২৪৮টি বৈধ পাশের (পারমিট) বিপরীতে ১৭০৯ জন মৌয়াল বনে প্রবেশ করেছিল। এ সময় প্রাকৃতিক চাক থেকে ৮৫৪. ৫ কুইন্টাল মধু ও ২৭৫. ৫ কুইন্টাল মৌমাছির মোম আহরণ করা হয়। চলতি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে পূর্ব নির্ধারিত এলাকা থেকে ১১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মৌমাছির মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বন বিভাগ।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বিকাল সাড়ে ৩টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুমড়ো খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই খাল খননের মাধ্যমে স্থানীয় জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। 

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   সুন্দরবন  মধু  আহরণ  কার্যক্রম  উদ্বোধন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: