মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিলেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে এক ভোটাভুটির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর আলজাজিরার।
সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পার্লামেন্টের মোট ৫৮৪ জন সদস্যের মধ্যে ২৯৩ জন মিন অং হ্লাইংয়ের পক্ষে ভোট দেন। এর মাধ্যমেই তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এই পদের জন্য যে তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, তার মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল অন্যতম ছিলেন।
২০২১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন মিন অং হ্লাইং। সু চিকে কারাবন্দী করার পর দেশজুড়ে যে গণ-আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়। গত পাঁচ বছর ধরে সেই সংঘাত দেশটিকে খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত সোমবার হ্লাইং তার উত্তরসূরি হিসেবে সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ইয়ে উইন ও’কে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে মনোনীত করেন। ইয়ে উইন ও জেনারেল হ্লাইংয়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত।
গত ডিসেম্বরে মিয়ানমারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ৮০ শতাংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং দেশটির গণতন্ত্রপন্থীরা সেই নির্বাচনকে 'প্রহসন' বলে আখ্যায়িত করেছে। মূলত সামরিক শাসনকে গণতন্ত্রের মোড়কে সাজাতেই এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছিল।
মিয়ানমারের পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন আগে থেকেই সেনাসদস্যদের জন্য সংরক্ষিত। ফলে মিন অং হ্লাইংয়ের জয় ছিল অনেকটা অনুমিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরে এসে বেসামরিক পোশাকের প্রেসিডেন্ট হওয়ার মাধ্যমে হ্লাইং আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে রাজপথে পরিস্থিতি এখনো থমথমে। জান্তাবিরোধী লড়াই জোরদার করতে সু চির দলের একাংশ এবং জাতিগত সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গত সোমবার একটি 'নতুন সম্মিলিত ফ্রন্ট' গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো সামরিক স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে একটি ফেডারেল গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা।
সময়ের আলো/আআ