ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন, তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে নিশ্চিত না হয়েই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে ইচ্ছুক। যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করেছে এবং তাদের সামরিক বাহিনী দ্রুত, চূড়ান্ত ও অভাবনীয় বিজয় অর্জন করেছে। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের তেল বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই সরু জলপথ দিয়ে পারাপার হয়। ইরানের অবরোধের কারণে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সাধারণ ক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্বের যে দেশগুলো হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে তেল পায়, তাদেরই এই পথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া উচিত। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেলের প্রয়োজন নেই, তারা শুধু মিত্রদের সাহায্য করতে সেখানে আছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ছাড়া যুদ্ধ থেকে সরে এলে তিনটি পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে:
১. যুদ্ধ শেষ হবে, কিন্তু কোনো চুক্তি হবে না
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্দিহান। ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন, তবে প্রণালী খোলার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি না দিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরান যে যুদ্ধবিরতি পাবে, সেটি তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে। হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থেকে যাবে। ফলে বিশ্বজ্বালানি বাজারে তেলের দাম বাড়বে এবং কৃষি, শিল্প ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে চাপ পড়বে। ড্যান ব্রুইলেট বলেছেন, কোনো চুক্তি ছাড়া ফিরে আসা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ‘ভীষণ সমস্যামূলক’ হবে।
২. বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নেবে ইরান
যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ থেকে যায়, ইরান স্বাধীনভাবে জাহাজে হামলা চালাতে পারবে বা টোল আদায় করতে পারবে। এটি আন্তর্জাতিক জলপথ হলেও ইরান আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাবে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন ট্রাম্প চুক্তি ছাড়া সরে যান, তখন ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সরাসরি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য চুক্তি করতে হবে। এতে জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে সংঘাতের অজুহাত তৈরি হবে।
ইরানের আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, তারা নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ২ মিলিয়ন ডলার করে মাশুল নিচ্ছে। যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি ছাড়া এই পদ্ধতি বৈধতা পেতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দেবে।
৩. যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া অন্য দেশগুলো প্রণালী খুলে দেবে
ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাজ্য ৩৫টি দেশকে একত্রিত করেছে এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সব সম্ভাব্য পদক্ষেপ মূল্যায়ন করছে।
তাদের লক্ষ্য, আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চলাচল পুনরায় শুরু করা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোট কোনো দেশ সরাসরি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আগ্রহী নয়। সামরিক পরিকল্পনা তৈরি হলেও বাস্তবায়ন এখনও স্পষ্ট নয়।
/ইউএমএইচ