প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর ঝালকাঠি জেলার বেশিরভাগ মানুষের পেশা কৃষি ও ব্যবসা। ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এ জেলাকে এক সময় দ্বিতীয় কলকাতা বলা হতো। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল সংকট দেখা দিয়েছে ঝালকাঠিতে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল ও পেট্রোল পাচ্ছেন না তারা। এতে ট্রাক্টর, সেচযন্ত্র পাওয়ার পাম্প, পাওয়ার টিলার, কীটনাশক দেওয়ার মেশিন, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র চালাতে পারছেন না কৃষকরা। অনেকে আবার দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনে ব্যবহার করলেও পণ্য উৎপাদনে খরচ বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। কেউ আবার উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার ভয়ে চাষাবাদ বন্ধ রেখেছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষিনির্ভর এ জেলায় চাহিদা অনুয়ায়ী কৃষি উৎপাদন হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে। আউশ আবাদ শুরু হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টর এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ হয়েছে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষকরা জমি চাষাবাদ শুরু করেছেন। ক্ষেত তৈরি করতে তাদের পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। ক্ষেতে পানি উঠাতে সেচ পাম্প ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে প্রয়োজন হচ্ছে ডিজেল। আগে পেট্রোল পাম্প, ডিলার এবং খুচরা দোকান থেকে ১০০ টাকা কেজিতে পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যেত। বর্তমানে সংকটের কারণে জনপ্রতি এক থেকে দুই লিটারের বেশি ডিজেল দিচ্ছে না বিক্রেতারা। এতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পাম্পের সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ জেলায় ডিজেলের কোনো সংকট নেই। হয়তো খুচরা বাজারে একটু প্রভাব পড়েছে। তারপরেও যদি কোনো কৃষক ডিজেলের অভাবে চাষাবাদ করতে না পারেন তাদের সহযোগিতা করা হবে। কেউ বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষক বাঁচলে আমাদের দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকের সব সমস্যা সমাধান করা হবে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান এলাকার কৃষক আল আমিন বলেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকট চলছে। আমরা দোকানে গেলে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। আমাদের বেশি প্রয়োজন ডিজেল। এখন এক থেকে দুই লিটারের বেশি পাই না। অনেকের কাছে পেলেও দাম রাখছে বেশি। এতে পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
আরও পড়ুন
নলছিটির মালিপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, সেচের অভাবে মাটি ফেটে যাচ্ছে। কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না। পাম্প রয়েছে অনেক দূরে, ডিলার অথবা খুচরা দোকানে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। দাম না কমলে ধান ও চালের দাম বেড়ে যাবে। এদিকে জ্বালানি তেলের জন্য প্রতিদিন শহরের পেট্রোল পাম্প এবং ডিলারদের দোকানে ভিড় পড়ছে যানবাহন চালকদের। চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছেন না দোকানিরা। সুযোগ বুঝে কেউ আবার দাম বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতা ও পাম্প মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেছেন, এক শ্রেণির অসাধু ডিলার বাড়তি লাভের আশায় জ্বালানি তেল মজুদ করে রেখেছে।
এ কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ঝালকাঠির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেলর ডিপো থেকে ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ লিটার ডিজেল এবং আড়াই লাখ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে।
এএডি/