গাইবান্ধায় ছয় স্কুলে শতভাগ পাস, দুই স্কুলে শতভাগ ফেল

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গাইবান্ধা জেলায় একইসঙ্গে ধরা পড়েছে সাফল্য ও ব্যর্থতার সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি

2026-08-11T14:37:23+00:00
2026-08-11T14:37:23+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬,
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ
গাইবান্ধায় ছয় স্কুলে শতভাগ পাস, দুই স্কুলে শতভাগ ফেল
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৭ পিএম 
এসএসসির ফলাফল ঘোষণার পর গাইবান্ধার একটি স্কুল প্রাঙ্গণে উচ্ছ্বসিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ছবি : সময়ের আলো
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গাইবান্ধা জেলায় একইসঙ্গে ধরা পড়েছে সাফল্য ও ব্যর্থতার সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি চিত্র। এক দিকে জেলার ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করে শতভাগ সাফল্যের নজির গড়েছেন, অন্য দিকে দুটি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও কৃতকার্য হতে পারেননি। জেলা শিক্ষা অফিসের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার গাইবান্ধার ঘাগোয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এসকেএস নতুন কুঁড়ি বিদ্যাপীঠ, আমেনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বারিদ মাল্টিমিডিয়া স্কুল, সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন মডেল হাইস্কুলে সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন।

পাসের হারের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে আহম্মদউদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল ও কলেজ, যেখানে ৯৫.৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার পাসাপাসি জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪৫ জন। এরপরের অবস্থানে রয়েছে গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, যার পাসের হার ৯৫.২৪ শতাংশ। এ ছাড়া গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯২.৫৭ শতাংশ ও এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯২.৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন।

অন্যদিকে জেলার দুটি স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এর একটি পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, যেখান থেকে পরীক্ষায় বসেছিলেন মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী। তারা তিনজনই ছিলেন মানবিক বিভাগের এবং কেউই কৃতকার্য হতে পারেননি।


আরেকটি প্রতিষ্ঠান সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। সেখান থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের একজনও পাস করতে পারেননি।

মঙ্গলবার শতভাগ ফেল করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এমন ফলাফল কাম্য নয়। তিনি জানান, কী কারণে দুটি বিদ্যালয়ে এমন বিপর্যয় ঘটল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাসাপাসি বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যর্থতার কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন সময়ের আলোকে জানান, বিদ্যালয়টির ফলাফলে এমন বিপর্যয় এর আগে কখনো হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিন শিক্ষার্থীর সবাই গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, আর এর একটি বড় কারণ হলো বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক ফারুক খালেকের দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা।


১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০০৫ সালে এমপিওভুক্তির আওতায় আসে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন।

জেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব অনুযায়ী, এবার গাইবান্ধার সাত উপজেলার ৬৬টি কেন্দ্রে মোট ৩২ হাজার ৮৩৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে এসএসসি শাখায় ৪০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ২২১ জন, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) মিলিয়ে ১৫টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ১ জন এবং দাখিল শাখায় ১১টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৬১৫ জন।

উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৬টি কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৭৮৪ জন, সুন্দরগঞ্জের ৭টি কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৬৬৭ জন, সাদুল্লাপুরের ৫টি কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৫৯৮ জন, গোবিন্দগঞ্জের ৯টি কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৮৭৭ জন, সাঘাটার ৫টি কেন্দ্র থেকে ৩ হাজার ১ জন, পলাশবাড়ীর ৫টি কেন্দ্র থেকে ৩ হাজার ১৮৫ জন এবং ফুলছড়ির ৩টি কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ১০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।


পাসের হারের হিসাবে, এসএসসি শাখায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৪ হাজার ৯৮০ জন, পাসের হার ৫৭.২৭ শতাংশ। এসএসসি ভোকেশনালে পাস করেছেন ১ হাজার ৩৬৫ জন, পাসের হার ৫৩.৫২ শতাংশ। দাখিল ভোকেশনালে সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে মাত্র ৩০.২৭ শতাংশ, উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩০ জন। আর দাখিল শাখায় পাস করেছেন ২ হাজার ৪০৪ জন, পাসের হার ৪৬.৯৯ শতাংশ।

সব মিলিয়ে এবারের ফলাফলে গাইবান্ধার শিক্ষাচিত্রে যেমন উজ্জ্বল সাফল্যের দৃষ্টান্ত রয়েছে, তেমনি দুটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ব্যর্থতা প্রশ্ন তুলেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ও শিক্ষক সংকট নিয়ে। জেলা শিক্ষা অফিসের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, প্রকৃত কারণ শুধু একজন শিক্ষকের অসুস্থতা ও অনুপস্থিতি, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।

সময়ের আলো/আতা


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: