বিশ্বের সামরিক ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা ঘটিয়েছে ইরান, একই দিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এই হামলা এমন সময় ঘটেছে যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী এক মাস ধরে ইরানকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছিল। এর ফলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও কার্যকর এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে টিকে আছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হওয়ার দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে।
ইরানি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) প্রকাশিত ভিডিও ও ছবি থেকে জানা গেছে, তারা বিমানের অবস্থান শনাক্তে রাডারের পরিবর্তে অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড (আইআর) সেন্সরের উপর নির্ভর করেছে। এই পদ্ধতিতে বিমানকে ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া তাপ বা বাতাসের ঘর্ষণে তৈরি তাপ দিয়ে লক্ষ্য করা হয়। একবার তাপ শনাক্ত হলে, ক্ষেপণাস্ত্র সেই তাপের উৎস অনুসরণ করে নিখুঁতভাবে আঘাত করে।
ইরানি স্বনির্মিত ‘মজিদ’ (এডি-০৮) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যবহার সম্ভবত এই হামলায় প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এটি স্বল্প পাল্লার, কম উচ্চতায় কাজ করে এবং ১৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ৭০০ মিটার থেকে ৮ কিলোমিটার দূর এবং ৬ কিলোমিটার উচ্চতার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। মজিদ একই সময়ে চারটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে, যা দ্রুতগতিসম্পন্ন যুদ্ধবিমানের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।
এফ-১৫ই ও এ-১০ যুদ্ধবিমানগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং উন্নত আত্মরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। এদের ইঞ্জিনের তাপ কমানোর নজেল ও বিশেষ কোটিং রয়েছে, যা তাদের তাপীয় উপস্থিতি কমিয়ে দেয়। এছাড়া, খারাপ আবহাওয়া বা কুয়াশা থাকলে ইনফ্রারেড ক্যামেরা কার্যকর হয় না। তাই ইরান সম্ভবত বিমানগুলোকে খুব কাছাকাছি এবং কম উচ্চতায় অবস্থান করার সময়, যখন পাইলটদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সীমিত ছিল, এই হামলায় সফল হয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মধ্যেও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যকর। এটি মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক শক্তির ভারসাম্যে ইরান এখনও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
/ইউএমএইচ