বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের সময় দীর্ঘদিন যাবৎ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সিলেট হবিগঞ্জের মাধবপুর তেলিপাড়ায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ‘ঐতিহাসিক তেলিপাড়া দিবস’ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
ইশরাক হোসেন বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল তেলিয়াপাড়া বৈঠক। এই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে ছত্রভঙ্গ প্রতিরোধ সংগঠিত সামরিক অভিযানের রূপ নেয়। ওই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের সকল সেক্টর কমান্ডার ও সামরিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পর্যায়ক্রমে প্রথমে কয়েকটি বাহিনীতে বিভক্ত হয়ে পরবর্তীতে সারাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে যে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, সেটিকে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেলিয়াপাড়া বৈঠক প্রমাণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনো আবেগপ্রবণ বিদ্রোহ ছিল না; এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত, কৌশলগত এবং সুশৃঙ্খল সামরিক অভিযান।
তিনি বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৫০-৫৫ বছর অতিক্রম হওয়া সত্ত্বেও আমাদের ইতিহাসকে বারবার বিকৃত করা হয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের সময় দীর্ঘদিন যাবৎ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। এটিকে একটি দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জাতির কাছে বারবার ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এমনভাবে ইতিহাসকে সাজানো হয়েছে যেন মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি ব্যক্তির এবং একটি দলের অর্জন।
ইশরাক হোসেন বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের নয়। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সমগ্র জাতির।
তিনি বলেন, আজকের দিনে নতুন করে শপথ নেওয়া উচিত—ইতিহাস জানতে হবে, ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশকে পার্শ্ববর্তী দেশের একটি ‘দাস রাষ্ট্র’ ও ‘প্রজারাষ্ট্রে’ পরিণত করা হয়েছিল।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব সাদেক আহমেদ খান, জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ প্রমুখ।
এফআর