চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের এক আতঙ্কের নাম ‘গলাকাটা বাচা’। সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের গহিন পাহাড়ে যার নির্দেশে চলত জমি দখল, চাঁদাবাজি আর অস্ত্রের ঝনঝনানি। অবশেষে র্যাব-৭-এর এক সাঁড়াশি অভিযানে ধরা পড়েছে এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন প্রকাশ ওরফে ‘গলাকাটা বাচা’।
রোববার (৫ এপ্রিল) র্যাব-৭-এর অধিনায়ক সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত শুক্রবার সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ সলিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদ্দাম হোসেন বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন আরেফিন নগর মুক্তিযোদ্ধা কলোনির বাসিন্দা। অপরাধ জগতে সে ‘গলাকাটা বাচা’ নামে পরিচিতি পায় তার নিষ্ঠুরতা ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে। সে জঙ্গল সলিমপুরের ‘অঘোষিত সম্রাট’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী এবং তার বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে পরিচিত।
বড় সাজ্জাদ যখন আড়ালে থেকে জঙ্গল সলিমপুরের ‘প্লট সাম্রাজ্য’ নিয়ন্ত্রণ করত, তখন মাঠপর্যায়ে সেই আধিপত্য ধরে রাখার দায়িত্ব ছিল বাচার কাঁধে।
সাদ্দামের অপরাধের ফিরিস্তি কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়।
র্যাব ও পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ, চকবাজার, ডাবলমুরিং, বায়েজিদ বোস্তামী, আকবর শাহ এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানায় অন্তত ৭টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টা, অস্ত্রবাজি ও চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং মাদক ও ছিনতাই।
সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় আত্মগোপন করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, সে দক্ষিণ সলিমপুর এলাকায় কোনো এক গোপন মিটিং বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। গত শুক্রবার সুপরিকল্পিত অভিযানে তাকে ঘিরে ফেলে র্যাব। পালানোর কোনো সুযোগ না পেয়ে অবশেষে ধরা দেয় এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।
সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধীদের ‘সেফ হাউস’ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে সাদ্দাম হোসেনের বড় ভূমিকা ছিল। বড় সাজ্জাদের বাহিনীর হয়ে সে পাহাড়ে অস্ত্রধারী ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ ও টহল তদারকি করত। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে জমি বিক্রি এবং পাহাড় কাটার টোকেন বাণিজ্যে তার নির্দেশ ছাড়া কোনো কাজ চলত না। তার গ্রেফতারের মাধ্যমে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর একটি শক্তিশালী খুঁটি উপড়ে ফেলা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, সাদ্দাম ছিল এই এলাকার অভিশাপ। তার কথা না শুনলে পাহাড়ের গহিনে নিয়ে গিয়ে টর্চার সেলে নির্যাতন করা হতো। আমরা চাই তার যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় এবং সে যেন আর জেল থেকে বের হতে না পারে।
পুলিশ জানায়, সাদ্দাম হোসেনকে মহানগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের অস্ত্রের মজুদ এবং বড় সাজ্জাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করার চেষ্টা করা হবে।
সময়ের আলো/জোই/এফআর