অ্যাম্বুলেন্স আছে কিন্তু চালক নেই- এমন পরিস্থিতিতে টানা চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। ফলে জরুরি রোগী পরিবহন পুরোপুরি বেসরকারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে বাড়তি আর্থিক চাপ ও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোর্শেদ সজিব বলেন, সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগের বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোর্শেদ সজিব।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যার এই হাসপাতাল। কয়েক বছর আগে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয় যা নিয়মিত রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
তবে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চালক মো. জব্বার হাওলাদার অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য এক মাসের ছুটিতে তিনি ভারতে যান। পরে চিকিৎসা শেষে কর্মস্থলে ফিরলেও গত ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকেই কার্যত বন্ধ হয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা। চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে জরুরি রোগী পরিবহন সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় যানটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেটকারের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে তাদের। আগে যেখানে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে আগৈলঝাড়া থেকে বরিশাল যেতে খরচ হতো প্রায় ৯৫০ টাকা সেখানে এখন বেসরকারি ব্যবস্থায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কথা হয় বাকাল ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগী নিয়ে চরম বিপদে পড়েছি। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি গাড়ি নিতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করে গৈলা ইউনিয়নের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আগে কম খরচে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যেত। এখন কয়েক হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে যা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সেবা বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে বেসরকারি পরিবহন চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন।
এতে বাড়তি ভাড়া গুণতে গিয়ে আর্থিকভাবে চাপে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে দ্রুত চালক নিয়োগ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তা না হলে জরুরি রোগী পরিবহনে সংকট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সময়ের আলো/আআ