যেভাবে ইরানে লুকিয়ে ছিলেন মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর এর এক ক্রু সদস্য শত্রুপক্ষের এলাকায় এক দিনের বেশি সময় গোপনে আত্মগোপন করে ছিলেন। পরে

2026-04-06T15:27:26+00:00
2026-04-06T15:35:29+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যেভাবে ইরানে লুকিয়ে ছিলেন মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম  আপডেট: ০৬.০৪.২০২৬ ৩:৩৫ পিএম
ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান। সংগৃহীত ছবি
মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর এর এক ক্রু সদস্য শত্রুপক্ষের এলাকায় এক দিনের বেশি সময় গোপনে আত্মগোপন করে ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পুরো ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, তার লুকিয়ে থাকার কৌশল এবং উদ্ধার অভিযানের ধাপগুলো নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

গত শুক্রবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। বিমানটি যুক্তরাজ্যের লেকেনহিথ ঘাঁটিভিত্তিক ৪৮ ফাইটার উইংয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে দুইজন ক্রু ছিলেন—একজন পাইলট এবং অন্যজন অস্ত্রব্যবস্থা–সংক্রান্ত কর্মকর্তা। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার মুহূর্তে দুজনই ইজেক্ট করে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাইলটকে পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

নিখোঁজ ওই কর্মকর্তা শত্রুপক্ষের নজর এড়াতে একটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের খাঁজে আশ্রয় নেন। তার কাছে ছিল একটি পিস্তল, একটি সুরক্ষিত যোগাযোগযন্ত্র এবং একটি শনাক্তকরণ ডিভাইস। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ধরা পড়লে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম, তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন। এমনকি ইরানের পক্ষ থেকেও তাকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, ফলে তার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এক পর্যায়ে তিনি স্থান পরিবর্তন করে পাহাড় বেয়ে আরও উঁচু এলাকায় উঠে যান, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাত হাজার ফুট ওপরে ছিল। সেখানে অবস্থান নেওয়ার পর তিনি খুব সীমিত ও বিরতিতে বিরতিতে যোগাযোগ করতে থাকেন, যাতে শত্রুপক্ষ তার অবস্থান ট্র্যাক করতে না পারে। প্রতিটি যোগাযোগ ছিল হিসেব করে করা, যেন সিগন্যাল ইন্টারসেপ্ট হলেও নির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা উদ্ধার অভিযানের জন্য বিস্তারিত কৌশল তৈরি করতে থাকে। একই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ আলাদা করে মনস্তাত্ত্বিক ও বিভ্রান্তিমূলক কার্যক্রম চালায়। তারা ইরানের ভেতরে গোপনে এমন তথ্য ছড়িয়ে দেয় যে নিখোঁজ দুই ক্রুকেই ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মনোযোগ ভিন্নদিকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

উদ্ধার অভিযানকে আরও নির্বিঘ্ন করতে মিত্র দেশ ইসরায়েলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা সম্ভাব্য কিছু সামরিক হামলা স্থগিত রাখে, যাতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি না হয় এবং উদ্ধার মিশন ঝুঁকিতে না পড়ে। পাশাপাশি তারা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করে।

শেষ পর্যন্ত সিআইএ নিখোঁজ কর্মকর্তার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর একটি কমান্ডো দল দ্রুত অভিযান চালায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে তারা ওই কর্মকর্তাকে খুঁজে বের করে এবং নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসে।

পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ওই সাহসী সেনা ইরানের বিপজ্জনক পাহাড়ি এলাকায় শত্রুদের মাঝখানে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁকে ধরতে শত্রুরা ক্রমেই কাছে চলে আসছিল। তবে বাস্তবে তিনি কখনো একা ছিলেন না—পেছনে ছিল পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত প্রচেষ্টা।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ইরান  যুদ্ধবিমান  নিখোঁজ ক্রু 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: