তারকাখ্যাতির সঙ্গে নানারকম বিড়ম্বনাও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবনে। তবে কিছু অভিজ্ঞতা ভুলে থাকা যায় না। ক্যারিয়ারে ঘটে যাওয়া এমনই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। তার বয়স তখন মাত্র ১৫ বছর; তখন তিনি স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। অথচ সেই সময়ে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়টি প্রকাশ্যে এনেছেন জাহ্নবী। তিনি জানান, সেই সময় পর্ন সাইটে নিজের ছবি দেখে রীতিমতো শরীর কেঁপে উঠেছিল তার।
স্মৃতিচারণা করে জাহ্নবী বলেন, ওটা আমার ডিপফেক ছিল কি না, এখনও জানি না। তবে এটুকু বুঝেছিলাম খুব খারাপ কিছু একটা হতে চলেছে। নিজের ছবি দেখেছিলাম পর্ন সাইটে। একজন স্কুলের ছাত্রী হিসেবে এটা মেনে নেওয়া কঠিন। সেই দৃশ্য দেখে শরীর কেঁপে উঠেছিল।
জাহ্নবী বলেন, আমাদের তখন একটা আইটির ক্লাস হতো। ছেলেরা কিছু সাইটের নোংরা ছবি দেখে মজা নিত। আর সেখানে আমার ছবি, কী মারাত্মক। নিজের সেই বিকৃত ছবিগুলো দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। সেই সময়ের এরকম একটা ঘটনা আমার জীবন যেন একেবারে ওলটপালট করে দিয়েছিল। একসময় মনে হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকাটাই যেন অপরাধ। আমি সেই অপরাধের মাশুল গুনছি। এতগুলো বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা যেন আজও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। আমি তো সাহস করে তখন অভিযোগও করতে পারিনি।
বর্তমান সময়ে এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিও নিয়েও নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেন আমিই সেগুলো স্বেচ্ছায় শেয়ার করেছি। এর ফলে আমার সম্পর্কে একটা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। মূলত নেতিবাচক কিছু প্রতিস্থাপন করা হয়। আগামীতে আমি যদি পরিচালককে কোনো পোশাক নিয়ে আপত্তি জানাই বা বলি যে এই পোশাকে আমি স্বচ্ছন্দ নই, তখন তো তিনি আমাকে আর বিশ্বাস করবেন না। এই ছবিগুলো উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখবেন। অন্যদিকের মানুষটার তো সত্যিই জানা সম্ভব নয় যে, ওটা এআইয়ের কেরামতি।