মানসিক প্রশান্তির খোঁজে

তৌফিক সুলতান

ইসলাম

নানাবিধ দুশ্চিন্তা ও হতাশার কারণে মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ সমাধান হিসেবে বেছে নেয় আত্মহত্যা আবার কেউ

2026-04-07T15:34:30+00:00
2026-04-07T15:34:30+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
মানসিক প্রশান্তির খোঁজে
তৌফিক সুলতান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম 
প্রতীকী ছবি
নানাবিধ দুশ্চিন্তা ও হতাশার কারণে মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ সমাধান হিসেবে বেছে নেয় আত্মহত্যা আবার কেউ জীবনের স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়ে ফেলে। বিশ্বাস-অবিশ্বাস থেকে অশান্তি আর সেখান থেকে জন্ম নেয় বিভিন্ন কৃত্রিম সংকট ও সমস্যা। কেউ কেউ তা মোকাবিলা করতে পারে, কেউ কেউ পারে না। সহজ সমাধান খুঁজতে গিয়ে কেউ পথ হারিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে আর মুমিনগণ মাথা অবনত করে মহান আল্লাহর দরবারে। মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ নেই যার চিকিৎসা আল্লাহ তায়ালা দেননি। মানসিক চাপসহ নানাবিধ রোগবালাই থেকে উত্তরণে ইসলামি ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণে হৃদয়গুলো প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত : ২৮)

অহেতুক দুশ্চিন্তা অনেকটা দুষ্টচক্রের মতো। যত দূর করতে চাইবেন, তত আপনাকে জেঁকে ধরবে। কথায় আছে, ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।’ মস্তিষ্ক যত অলস বসে থাকে, তত মাথায় জমা হয় অহেতুক চিন্তা। তাই নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, আপনার ভালো লাগে এমন ভালো কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করুন। জীবনে পাওয়া না পাওয়ার বেদনায় হতাশ হওয়া কিংবা মানসিক চাপ অনুভব করা নতুন কোনো বিষয় নয়। বিপদাপদ, চাপ কিংবা না পাওয়ার বেদনা যতবেশিই হোক না কেন, কোনো অবস্থায় হতাশ হওয়া ঈমানদারের কাজ নয়। বরং সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রাখাই সুস্থ থাকার উপায় এবং বুদ্ধিমানের কাজ।

মানসিক অশান্তি থেকে মুক্ত থাকতে মহান আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের বিকল্প নেই। কেননা তিনিই বলেছেন, ‘যে মহান আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’ (সুরা তালাক, আয়াত : ৩)। আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা ও পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস স্থাপনে তার মনোবল বেড়ে যায়। ফলে সে অন্তরে খুঁজে পায় এক অনাবিল সুখ ও পরিতুষ্টি। সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়ায় সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল করতে জানে তার জন্য কোনো চিন্তা নেই। 
আরও পড়ুন

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, আমি বান্দার সঙ্গে ওইরূপ করি, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে।’ (বুখারি) মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত দোয়া করা উচিত। কারণ হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মূল বলা হয়েছে। দোয়া বা প্রার্থনা করলে, কোনো কিছু চাইলে মহান আল্লাহ খুশি হন; না করলে বরং অসন্তুষ্ট হন। যেকোনো বিপদ-মসিবত, পেরেশানির সময় নামাজের মাধ্যমেই প্রকৃত প্রশান্তি লাভ কর যায়। কেননা নামাজের মাধ্যমেই বান্দা মহান আল্লাহর সাহায্য লাভ করে থাকেন। তাই মানসিক প্রশান্তি লাভে নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৫)। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাজ আদায় করতেন (আবু দাউদ)। সাহাবায়ে কেরামও এ আমলে অভ্যস্ত ছিলেন। ছোট থেকে ছোট কোনো বিষয়ের জন্যও তাঁরা নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে বেশি বেশি ইসতিগফারের বিকল্প নেই। যেসব কারণে মানুষ চাপে পড়ে, তন্মধ্যে অন্যায়-অপরাধ বেশি করা, অর্থ কষ্টে থাকা, সন্তান-সন্ততি না থাকা, জীবিকার অপ্রতুলতা, বেকারত্ব সমস্যা, সামাজিক সমস্যা, পারিবারিক সমস্যা ইত্যাদি। এর সমাধানে কুরআনের নির্দেশনা হলো ইসতিগফার করা। ইসতিগফারেই মানুষ উল্লিখিত সমস্যা থেকে সমাধান খুঁজে পায় বলে ঘোষণা করেছেন মহান আল্লাহ। কুরআনে এসেছে, ‘অতঃপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহিত করবেন’ (সুরা নুহ, আয়াত : ১০-১২)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইসতিগফার করবে, আল্লাহ তায়ালা তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন। তার সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)

কুরআন তেলাওয়াত মানুষের অন্তরকে প্রফুল্ল করে তোলে, হৃদয়কে করে প্রশান্ত। কেননা কুরআন তেলাওয়াত মুমিনের প্রফুল্লতার অনন্য উৎস। কুরআনের আলোয় আলোকিত মানুষ সব দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে মুক্ত থাকে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, আল্লাহ তাদের পবিত্র কুরআন দ্বারা শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে তাদের কুফরির অন্ধকার থেকে বের করে ঈমানের আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদের সরল পথে পরিচালিত করেন’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ১৫-১৬)। রাসুলুল্লাহ (সা.) হতাশা, দুশ্চিন্তা, দুঃখ-কষ্ট, মানসিক চাপ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে কীভাবে দোয়া করব তা বলে দিয়েছেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজানি, ওয়াল আজজি ওয়াল কাসালি ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি ওয়া দালাইদ-দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল, অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও লোকজনের প্রাধান্য থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৯৩)। 

অনেক ক্ষেত্রেই হতাশা থেকে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। তাই দুনিয়ার জীবনে বিপদাপদে হতাশ না হওয়া ঈমানদারের কাজ। যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের বিপদাপদ আসতে পারে এ মানসিকতা সবসময় পোষণ করা। ফলে তা মানুষকে বিপদে হতাশা থেকে রক্ষা করে মানসিক চাপমুক্ত রাখে।

এএডি/


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: