যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এক নতুন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা হামলা-পাল্টাহামলা, কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং কঠোর হুঁশিয়ারিতে পরিস্থিতি ক্রমশ আরও খারাপের দিকেই যাচ্ছে। বৃহত্তর আঞ্চলিক কিংবা বৈশ্বিক সংঘাতের সূচনাও হতে পারে বলে ধারণা করছে বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই সংকটকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির শর্ত মানা না হলে ইরানের একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ‘এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং তা বৈশ্বিক মাত্রা ধারণ করতে পারে। এতে করে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। দেশজুড়ে একাধিক রেলপথ ও যোগাযোগব্যবস্থায় ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খাড়গ দ্বীপেও বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে, যা ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানের ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যা সংঘাতের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের হুমকির পরপরই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে। যদিও সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আলোচনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দরকষাকষি চলছে বলে জানা গেছে, তবু উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে বিস্তৃত হতে শুরু করেছে। ইরান হুমকি দিয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় রয়েছে। একই সময়ে ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরাইলে হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে, যা এই যুদ্ধের বহুমাত্রিক প্রভাবকে সামনে আনছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সামরিক শক্তি, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক স্বার্থ এক জটিল সমীকরণে আবদ্ধ। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের ওপর যা শুধু এই অঞ্চলের নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই গভীর প্রভাব বয়ে আনতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সব শর্ত কিংবা দাবি মেনে নেওয়া না হলে ইরানে আজকেই একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ওই হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভয়াবহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সব শর্ত বা দাবি মেনে না নেয়, তা হলে মঙ্গলবার দেশটিতে ‘একটি আস্ত সভ্যতার মৃত্যু ঘটতে পারে।’
ট্রাম্প লিখেছেন, মঙ্গলবার রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা মারা যাবে; যা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, তবে সম্ভবত এটি হতে চলেছে।’ পোস্টের শেষে তিনি বলেছেন, ‘কে জানে কী হয়?’
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র রেডলাইন অতিক্রম করলে ইরানের জবাব আঞ্চলিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলটিমেটামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলতে সম্মত না হয় তবে তিনি ইরানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুগুলোতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আঘাত হানবেন।
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে আইআরজিসি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করে তবে ইরানও পাল্টা আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আমেরিকা এবং তার মিত্রদের অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানব। এতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে বঞ্চিত হবে।
আইআরজিসি বলেছে, তারা আক্রমণ করলে আমাদের যোদ্ধাদের রেঞ্জের মধ্যে তাদের কত সম্পদ ঝুঁকিতে পড়বে, সেই হিসাব করার ক্ষমতা আমেরিকার নেতাদের নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র রেড লাইন অতিক্রম করলে ইরানের জবাব আঞ্চলিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবব্ধ থাকবে না।
সময়সীমা শেষের আগে ‘প্রচুর আলোচনা ও দরকষাকষি’ চলছে : মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ‘প্রচুর আলোচনা ও দরকষাকষি’ চলছে। এই সময়সীমা পার হলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে আসবে কি না এ বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমান সময় থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পরের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন, আমরা তখনই সব জানতে পারব। তবে এর মধ্যে অনেক আলোচনা হবে এবং আমি আশাবাদী যে একটি ভালো সমাধান আসবে।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স যখন এই মন্তব্য করছেন, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ পোস্ট করে বলেছেন, আজ (গতকাল) রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি এটা চান না। কিন্তু সম্ভবত এটি হতে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘পুরো সভ্যতাকে মেরে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তেহরান। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলর চলা ৩৮ দিনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মাঝে তেহরান ওই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে দেশটির অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই সংবাদমাধ্যমের এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে এল, যখন ট্রাম্পের দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হতে আর কয়েক ঘণ্টা বাকি রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, যুদ্ধের দুই পক্ষ শক্তির মাঝে সরাসরি কূটনীতি বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো আজ রাতে আর কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই। প্রচলিত পন্থায় সম্ভবত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার রাতে আলোচনা কিংবা সময় বাড়ানোর চেষ্টা না করে কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের এই সিদ্ধান্ত একটি পরিষ্কার সামরিক বার্তা। বোমা হামলার মুখে তেহরান কোনো আলোচনায় বসবে না বা বন্দুকের নলের মুখে কোনো শর্ত মেনে নেবে না; সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে ইরান। যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার মাধ্যমে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা চলছিল, তা এখন আর কার্যকর নয়। বরং বর্তমানে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে রণক্ষেত্রের সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হুমকির পরপরই আজ (গতকাল) ইরানজুড়ে একাধিক রেলপথ ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। আইডিএফ আগে থেকেই ইরানের নাগরিকদের ১২ ঘণ্টা ট্রেন ব্যবহার না করতে এবং রেলপথ থেকে দূরে থাকার হুমকি দিয়েছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় দেশজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
ইরানের আধাসরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির কাশান শহরে একটি রেলসেতুতে হামলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
ইরানি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, কারাজ শহরে একটি রেললাইনে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত একজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ভিডিও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় কোম প্রদেশে সড়কপথের বেশ কিছু সেতু লক্ষ্য করে প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র জাতীয় অস্ত্র) নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, চলমান হামলার কারণে তাবরিজ ও জানজান শহরের মধ্যকার মহাসড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্যারেহ চামান-মিয়ানেহ সড়কটিও উভয় দিক থেকে বন্ধ রয়েছে।
ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খাড়গ দ্বীপে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ওই দ্বীপে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে আসার জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বলেছে, আমেরিকার সামরিক বাহিনী ওই দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে খাড়গ দ্বীপে হামলা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র সেটি দখলে নিতে পারে বলে একাধিকবার হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত ৩০ মার্চ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খাড়গ দ্বীপ এবং সব লবণাক্ত পানি শোধন কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার মাধ্যমে ইরানে আমাদের চমৎকার অবস্থান শেষ করব। সোমবারও ইরান সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাদেরকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা দেশটির ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধ চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই অভিযান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দিয়ে সেন্টকম বলে, এখন পর্যন্ত তারা ১৫৫টির বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে।
সেন্টকমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) সদর দফতর, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৬৬৫ জনই বেসামরিক নাগরিক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র নিশানা করে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। ইরানের আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে এই তথ্য জানানো হয়।
খবরে বলা হয়, ওপেনএআই, ওরাকল ও এনভিডিয়ার সহযোগিতায় আবুধাবিতে নির্মাণাধীন যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্টারগেট’ এআই কেন্দ্রটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানার আওতায় রয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলেছে, ইরান এই কেন্দ্রটিকে একটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার ইরান রাখে।
ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলায় আহত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ জন ইসরাইলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় বলেছে, স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ৭টা থেকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৭টা পর্যন্ত ১৩৩ জনকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, পাঁচজন মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন আর ১২৭ জন হালকা আঘাত পেয়েছেন। ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের সবচেয়ে বড় পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংস করেছে ইসরাইলি বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, তারা পরিকল্পিতভাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অর্থের উৎস ভেঙে দিচ্ছেন।
এক পৃথক বিবৃতিতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, তারা ইরানের দুটি বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে দেশটির ৮৫ শতাংশের বেশি পেট্রোকেমিক্যাল রফতানি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আইডিএফের দাবি, ইরানের আসালুয়ের একটি স্থাপনা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত : ইরানের ওপর হামলা জোরদার হওয়া এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। আলোচনার বিষয়ে অবগত দুটি পাকিস্তানি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।