ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী দুই সপ্তাহ ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিলেও, এই যুদ্ধবিরতি কতটুকু টেকসই হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে। সংঘাতের মূল কারণগুলো এখনও অমীমাংসিত থাকায়, ১৪ দিনের এই বিরতিকে কেবল ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা হিসেবেই অভিহিত করছেন বিশ্লেষকেরা।
নিউইয়র্কভিত্তিক নিউজ চ্যানেল এমএস নাওয়ে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছেন ড্যানিয়েল আর. ডিপেট্রিস। খ্যাতনামা এই পররাষ্ট্র বিষয়ক কলামিস্ট তার নিবন্ধে উল্লেখ করেন, এই সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো আস্থার সংকট। তার মতে, গত এক বছরে দুবার আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ট্রাম্পের কোনো প্রতিশ্রুতিকেই এখন আর বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না তেহরান।
ডিপেট্রিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুই পক্ষের লক্ষ্যমাত্রা এখন সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ইরান একদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি তুলছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের রণকৌশল এখনও অস্পষ্ট। কখনো পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানো, কখনো সামরিক শক্তি ধ্বংস, আবার কখনও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, এই অসংলগ্ন লক্ষ্যমাত্রা এবং শর্তের পাহাড় স্থায়ী চুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়া নিবন্ধটিতে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা প্রকাশ পেয়েছে। যুদ্ধের দামামায় বিগত এক মাসে তেলের দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ, যা সরাসরি মার্কিন অর্থনীতিতে আঘাত করছে। ইরান খুব ভালো করেই জানে, তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারলে ট্রাম্পকে সহজেই নতি স্বীকার করানো সম্ভব। রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে ইরান ও হুতিরা মিলে হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার যে ঝুঁকি রয়েছে, তা এই যুদ্ধবিরতিকে যে কোনো সময় ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।
সবশেষে রয়েছে ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষার চ্যালেঞ্জ। ড্যানিয়েল ডিপেট্রিস মনে করেন, দৃশ্যমান কোনো অর্জন ছাড়া এই যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি পিছু হটলে ট্রাম্পকে নিজ দেশে কঠোর রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার বিমান হামলার পরও যেখানে নতি স্বীকার করেনি ইরানি যোদ্ধারা, সেখানে মাত্র দুই সপ্তাহের এই সাময়িক বিরতি কি কোনো স্থায়ী সমাধান আনবে নাকি ওয়াশিংটনকে পুনরায় ভয়াবহ কোনো সামরিক অভিযানের দিকে ঠেলে দেবে, তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই