বেপরোয়া জ্বালানি মজুদে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম

সারাদেশ

সংকট পুঁজি করে সারা দেশে দেদার মজুদ করা হচ্ছে জ্বালানি তেল। টিনের কৌটা থেকে ড্রাম, প্লাস্টিক বোতল সবখানে মিলছে জ্বালানি

2026-04-09T00:31:31+00:00
2026-04-09T00:33:21+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বেপরোয়া জ্বালানি মজুদে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩১ এএম  আপডেট: ০৯.০৪.২০২৬ ১২:৩৩ এএম
সংগৃহীত ছবি
সংকট পুঁজি করে সারা দেশে দেদার মজুদ করা হচ্ছে জ্বালানি তেল। টিনের কৌটা থেকে ড্রাম, প্লাস্টিক বোতল সবখানে মিলছে জ্বালানি তেল। অভিনব কায়দায় পুকুরে লুকিয়ে রাখা ড্রামভর্তি জ্বালানি তেলও জব্দ করা হয়েছে। যেন জ্বালানি তেল মজুদের হিড়িক পড়েছে। বাড়িঘর ও ঝোপঝাড় পরিণত হয়েছে মিনি ট্যাঙ্কে। আবার সংকটের এই সুযোগে মিয়ানমারে পাচারকারীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সারা দেশে জব্দ করা হয়েছে মজুদ করা বিপুল জ্বালানি তেল। দায়ী ব্যক্তিদের অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু থেমে নেই মজুদ তৎপরতা। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে পেট্রোল পাম্প ও প্যাক পয়েন্ট ডিলারদের কাছ থেকে কেনা জ্বালানি তেলের বড় অংশ মজুদ করা হচ্ছে। অভিযানে নামলেই মিলছে জ্বালানি তেল। ডিজেলের পাশাপাশি উচ্চ দাহ্য পদার্থ পেট্রোল অকটেনের মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে বিপজ্জনকভাবে। মূলত সংকটের আশঙ্কা ঘিরে মজুদপ্রবণতা তৈরি হয়। তবে মজুদদারদের একটি বড় অংশ চড়া দামে বিক্রি করতে অবৈধ পথে নেমেছে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সারা দেশে জ্বালানি তেলের চলমান সংকট আরও বৃদ্ধি করেছে। 

পাশাপাশি চলতি শুষ্ক মৌসুমে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে বিস্ফোরণে বিপুল ক্ষতির শঙ্কা। ঝুঁকিতে পড়েছে অগ্নিনিরাপত্তা। বিস্ফোরক অধিদফতর ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, সব ধরনের জ্বালানি তেল মজুদের কিছু নিয়ম আছে। পেট্রোল পাম্প এবং প্যাক পয়েন্ট ডিলারদের কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করে দেওয়া হয় লাইসেন্স। পাম্প স্থাপনে বা প্যাক পয়েন্ট ডিলারদের তেল বিক্রি করতে প্রয়োজন হয় বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স। 

বৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের অনুমতি নেওয়া হলে নীতিমালা অনুসরণের প্রশ্ন আসে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির কাছে ডিলারদের তথ্য থাকে। তাতে দেখা যায় কোথায় কত তেল মজুদ আছে। কিন্তু এখন খেয়াল খুশিমতো জ্বালানি তেল মজুদ করা হচ্ছে। হঠাৎ দেশজুড়ে জ্বালানি তেল মজুদদারি বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ বলতে কিছুই নেই। যাচ্ছেতাইভাবে রাখা হচ্ছে বিস্ফোরণের চরম ঝুঁকিতে থাকা জ্বালানি তেল। 

মজুদের ধারাবাহিক প্রবণতার লাগাম টেনে ধরার বড় ধরনের কোনো তৎপরতা নেই। কেবল স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মজুদ করা জ্বালানি তেল জব্দ করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে- দেশজুড়ে হাজার হাজার লিটার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন মজুদ করা আছে। অনিরাপদভাবে মজুদ রাখা একেকটি কৌটা বা বোতল পরিণত হয়েছে বিপজ্জনক ‘বোমায়’। 

ক্রেতাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুদ্ধের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে রেশনিং করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে এক শ্রেণির ক্রেতার মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। তারা মনে করছেন সামনে হয়তো জ্বালানি তেলই মিলবে না। তাই বেশি পরিমাণে পাম্প থেকে সংগ্রহ করে লুকিয়ে রাখছেন ঘরের কোনে। পাশাপাশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে মজুদদার সিন্ডিকেট। তারা যেখানে-সেখানে অনিরাপদভাবে রাখছে জ্বালানি তেল। 

ড্রাম, প্লাস্টিক বোতল বা অনিরাপদ পাত্রে এসব দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। অকটেন-পেট্রোল উচ্চ দাহ্য পদার্থ হিসেবে পরিচিত। এসব সাধারণ তাপমাত্রায় দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়ে আবদ্ধ পাত্রে চাপ সৃষ্টি করে। এতে সামান্য তাপ, ঘর্ষণ কিংবা আগুন ছাড়াই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা বলেন, দেশজুড়ে আবাসিক এলাকায় জ্বালানি মজুদ করায় বিস্ফোরণ ঝুঁকি বেড়েছে। অনিরাপদ মজুদের কারণে নিজের পরিবার এবং পুরো এলাকার জন্য অগ্নিকাণ্ডের শঙ্কা বাড়িয়েছে।

যত্রতত্র মিলছে জ্বালানি তেল : সারা দেশে প্রায় প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেল মজুদদারির ঘটনা উদঘাটন হচ্ছে। চট্টগ্রামেও বিভিন্ন স্থানে মজুদ করে রাখা জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে মিয়ানমার সীমান্ত থাকায় দেদার পাচার হচ্ছে জ্বালানি তেল। সম্প্রতি পতেঙ্গা থেকে বিপুল জ্বালানি তেল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। মিয়ানমারে পাচারের আগ মুহূর্তে ধরা পড়ে এসব ডিজেল।

গত ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরসংলগ্ন দক্ষিণ পতেঙ্গার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় অবৈধভাবে মজুদ করা ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে এসব জব্দ করে। পতেঙ্গা থানার এসআই পল্লব সরকার বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় ৩০ ড্রামভর্তি ৬ টন অবৈধভাবে মজুদকৃত ডিজেল জব্দ করা হয়েছে, যা ৬ হাজার লিটারের কিছু বেশি। পাশাপাশি ডিজেল লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত তিনটি পাম্পও জব্দ করা হয়। 

গত ৪ এপ্রিল সকাল ৬টায় পতেঙ্গা থানাধীন চট্টগ্রাম বহির্নোঙর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিজেলসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। 

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা এই অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি বোটে তল্লাশি চালানো হয়। এরপর অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এসব ডিজেলের বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। অভিযানে ৬টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার, নগদ ১৫ হাজার ৮৯৬ টাকা এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত বোটটি জব্দ করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দ বোটটি ব্যবহার করে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জনকে মালয়েশিয়ায় পাচারের একটি বড় পরিকল্পনা ছিল। আটককৃত পাচারকারীদের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশি এবং ৮ জন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। জব্দকৃত মালামাল ও আটককৃত পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাচার ও চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। 

গত ৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় আবাসিক ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে জ্বালানি তেল সংরক্ষণের দায়ে এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। ওইদিন সন্ধ্যায় উপজেলার বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে মোর্শেদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করা হয় জরিমানা। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার। এ সময় মিরসরাই থানার পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন করে ঝুঁঁকিপূর্ণভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করার অপরাধে ওই ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, অভিযানের সময় মিরসরাই পৌরসভা মার্কেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া অন্যান্য সব দোকান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে পুকুরের পানির নিচে থেকে এক ব্যারেল ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব ডিজেল লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে মজুদের দায়ে আসমা বেগম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। 

কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের হিজলবাড়ী গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়। কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। ব্যবসায়ী আসমা বেগম কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের হিজলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলামের স্ত্রী।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুকুর থেকে ২০০ লিটারের এক ব্যারেল ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় ব্যবসায়ী আসমা বেগমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

তেল মজুদে কঠিন বিধিমালা বিস্ফোরক অধিদফতরের : পেট্রোল পাম্প কিংবা প্যাক পয়েন্ট ডিলারদের লাইসেন্স দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত তিন তেল কোম্পানি- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। লাইসেন্স নিতে অনেক ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। মানতে হয় বিস্ফোরক অধিদফতরের বিধিমালা। বিস্ফোরক অধিদফতরের বিধিমালা মানা হয়েছে কি না তা দেখতে সংস্থার পরিদর্শক সরেজমিন পরিদর্শন করেন ডিলারদের স্থাপনা। 

বিস্ফোরক অধিদফতর কঠোর কিছু বিধিমালা প্রণয়ন করেছে, যা মানা হলেই কয়েক বছরের জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়। অন্যথায় লাইসেন্স মেলে না। সাধারণ বিধানে আছে পেট্রোলিয়াম মজুদগার, স্থাপনা ফিলিং স্টেশন, ড্রাম, ট্যাঙ্ক, শোধনাগার ও পরিবহনে ধূমপান বা আগুন নিষিদ্ধ সতর্কবাণী ও পেট্রোলিয়াম/প্রজ্বলনীয় তরল পদার্থের ঝুঁকি শনাক্তকরণের জন্য সাইনবোর্ড লাগাতে হবে। 

ড্রামের ক্ষেত্রে ১০০ বর্গ সেন্টিমিটার, ২০ হাজার লিটার বা এক লাখ লিটার ট্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ১৬৯ বর্গ সেন্টিমিটার, এক লাখ লিটারের বেশি ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ৪০০ বর্গ সেন্টিমিটারের সতর্ক সাইনবোর্ড লাগাতে হবে। পেট্রোলিয়াম মজুদ, হ্যান্ডলিং ও পরিবহনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তি লাইসেন্সের শর্ত পালন করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক নেশাগ্রস্ত লোক, ১৮ বছরের কম বয়সের কোনো লোক পেট্রোলিয়াম খালাস কিংবা পরিবহনকাজে নিয়োগ করা যাবে না। এ ধরনের অন্তত অর্ধশত শর্ত আছে মজুদ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে। 

পেট্রোল পাম্প ও প্যাক পয়েন্ট ডিলার থেকে চূড়ান্ত লাইসেন্স নিতে হয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিস্ফোরক অধিদফতরের। সংস্থার চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, তেল মজুদের কিছু নীতিমালা-নিয়ম আছে। কেউ জ্বালানি তেল বিক্রির লাইসেন্স বা ডিলারশিপ নিতে চাইলে অনেক সংস্থার ছাড়পত্র লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। 

তার মধ্যে বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নীতিমালা নির্দেশনা যাচাই করে ডিলারদের লাইসেন্স প্রদান করি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই লাইসেন্সের সুপারিশ করা হয়। দেশে যেভাবে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ করা হচ্ছে তা খুবই বিপজ্জনক। এতে নিশ্চিতভাবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আছে। 

যা বলছে ফায়ার সার্ভিস : দেশজুড়ে যাচ্ছেতাইভাবে জ্বালানি তেল বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের মজুদ গড়ে তোলায় ফায়ার সার্ভিসও উদ্বিগ্ন। যেখানে-সেখানে অকটেন-পেট্রোলের মজুদ করায় অগ্নিনিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ডিজেল কেরোসিন কিছুটা ভারী জ্বালানি। 

অকটেন-পেট্রোল মারাত্মক দাহ্য পদার্থ। এসব খোলা পাত্রে রাখলে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। ম্যাচের কাঠি কিংবা খুব অল্প পরিমাণ আগুনের সংস্পর্শে এলেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। দেশে যে হারে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মজুদ করছে তাতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে।

ঝুঁকি এড়াতে কী করা যায় এ প্রশ্নে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল-মালিকরা বেশি অকটেন-পেট্রোল নিচ্ছে। পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে কড়াকড়িভাবে বিক্রি করা যায়। পাম্প পর্যায়ে কড়াকড়ি থাকলে যেখানে সেখানে মজুদ করার প্রবণতা অনেক কমে আসবে। প্রশাসনিকভাবেও বিষয়টি তদারক করা যায়। ফায়ার সার্ভিস জরুরি সেবায় ব্যস্ত থাকে। তাদের পক্ষে বিক্রি মনিটরিং করা কঠিন।

শঙ্কিত পেট্রোল পাম্প মালিকরাও : বেপরোয়া জ্বালানি তেল মজুদের কারণে পেট্রোল পাম্প মালিকরাও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, এভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করলে অগ্নিনিরাপত্তা থাকবে না। আজ (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। বৈঠকে পাম্প মালিকরা বেপরোয়া জ্বালানি তেল মজুদের কারণে ঝুঁকি তৈরির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। জেলা প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছে এ ব্যাপারে মনিটরিং জোরদার করা হবে। কেউ যাতে কোথাও মজুদ করতে না পারে। 

কারা মজুদ করছে তা নিয়ে আপনারা অবহিত কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের কাছে তেল কিনতে আসে ক্রেতারা। আমরা তাদের কাছে বিক্রি করি। কিন্তু কেউ সেই জ্বালানি তেল নিয়ে মজুদ করলে আমাদের মনিটরিং করা সম্ভব নয়। সেটা পারে প্রশাসন। 

সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মজুদ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে। আমরা চলমান সংকট কেন্দ্র করে বিপদে পড়ে গেছি। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করতে পারছি না। আবার মজুদের জন্য পাম্প মালিকদেরও সন্দেহ করা হচ্ছে। আমরা কোন দিকে যাব, কী করব, বুঝতে পারছি না। 

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   বেপরোয়া  জ্বালানি মজুদ  দুর্ঘটনা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: