নওগাঁর পোরশায় টেকনোলজিস্ট ছাড়াই কর্মচারী দিয়ে রেডিওলজি (এক্সরে) করার অভিযোগ উঠেছে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে। গত এক বছর থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শরিফুল ইসলাম কর্মচারীদের দিয়ে রেডিওলজি (এক্সরে) পরিচালনা করে আসছেন।
বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট ছাড়া এক্সরে করায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা।
জানা যায়, জেলার পোরশা উপজেলা হলেও নীতপুর এলাকায় এর সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ও হাট-বাজারসহ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা হয়ে থাকে। নীতপুরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার বিপরীত পাশে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
যার স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আনবিক শক্তি কমিশনের কোনো লাইসেন্স নেই। সেখানে প্রায় এক বছর থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের দিয়ে এক্সরে পরিচালনা করে আসছে। একটি এক্সরে কক্ষ অবশ্যই বিকিরণ সুরক্ষা বজায় রেখে তৈরি করতে হবে। রেডিয়েশন যেন বাইরে না আসতে পারে সেজন্য দরজায় সøাইডিং বা ভারী লেড-ক্ল্যাডিং থাকতে হবে। কিন্তু সেখানে সাধারণ একটি কক্ষে এক্সরে করা হয়।
হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেট করে রোগীদের এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। প্রত্যন্ত এলাকার সহজ-সরল মানুষ না বুঝে দালালদের প্ররোচনায় পড়ে সেখানে এক্সরে করে। ভুলভাল এক্সরের কারণে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে হয়রানি হতে হয়।
এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, অনভিজ্ঞদের দিয়ে এক্সরে পরিচালনার অভিযোগটি সঠিক না। এক্সরে পরিচালনার জন্য মাহাথির মাহমুদ নামে একজন অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও অবগত আছেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অর্গানাইজেশন পোরশা শাখার সভাপতি আবু তাহের বলেন, আমরা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে রেডিওলজি পরিচালনা করে থাকি। কিন্তু লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ছাড়াই গত এক বছর থেকে অনৈতিকভাবে অসিম আকরাম কাজল ও ঈসা নামে দুজন কর্মচারীকে দিয়ে এক্সরে পরিচালনা করছে। এরা কেউ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না।
যা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০-এর অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ। স্বাস্থ্য বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই। এক্সরে ভুল হলে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং রোগীদের ভোগান্তি বাড়ে।
নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনে প্রশাসন নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে অবশ্যই রেডিওলজি (এক্সরে) পরিচালনা করতে হবে। যদি অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট দিয়ে এক্সরে করা না হয় তা হলে পরীক্ষা সঠিকভাবে ও সঠিক মাত্রায় নাও হতে পারে। এ ছাড়া সাময়িক ক্ষতি হয়তো বুঝতে পারা যাবে না। কিন্তু দীর্ঘ সময় এভাবে চলতে থাকলে শরীরের ক্ষতি হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালাইবাড়ি গ্রামের এক গৃহবধূ বলেন, বাম হাতের কব্জির সমস্যার জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ৫০০ টাকায় এক্সরে করা হয়েছিল। এক্সরে রিপোর্ট দেখানো হলে সেটি ভুল হয়েছে বলা হয়। ভুল এক্সরে হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়া হলে মালিক আর টাকা ফেরত দেয়নি।
পাশের পদ্ম (সাবেদা) ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন, আমার জানামতে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রেডিওলজি (এক্সরে) পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নেই। টেকনোলজিস্ট ছাড়া তো এক্সরে করার নিয়ম নেই।
সময়ের আলো/কেএইচও