চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানাধীন বারিক বিল্ডিং এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় সামিয়া জাহান তানিশা (২২) নামে কলেজ ছাত্রী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে বারিক বিল্ডিংয়ের গোসাইলডাঙ্গা মন্দিরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কারটি পতেঙ্গা অংশ থেকে আগ্রাবাদ আসার পথে দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে আহত তানিশাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত তানিশা রাহাত্তারপুল এলাকার শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা। তার বাবার নাম আবু তালেব পাটোয়ারি। দুর্ঘটনার পর সামিন নামে কারচালক তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তানিশার স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে চমেকের পরিবেশ। স্বজনরা দাবি করেন কার চালক সামিন তানিশাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় এক তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আহত কার চালক চমেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে সে পুরোপুরি সুস্থ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রাইভেট কারটিতে কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে ছিল এক যুবক। কারটি চলছি দ্রুত বেগে। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। কার থেকে ছিটকে বেরিয়ে পড়ে একজন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। গুরুতর আহত অবস্থায় নেওয়ার পথে তানিশার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি আইডি কার্ডের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি হাজেরা-তজু ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বন্দর থানার এসআই নাজমুল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতির কারণেই চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক কলেজ ছাত্রী মারা যান। পুরো ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ বৃহস্পতিবার ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে দেখা যায় দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারের একটি অংশ দুমড়েমুচড়ে গেছে।
সন্ধ্যায় চমেকের মর্গের সামনে তানিশার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে ফোন দিয়ে বলেছে বাসায় এসে জোহরের নামাজ পড়বো। কার চালক সেই ছেলেটি তানিশাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
তানিশার বাবা আবু তালেব বলেন, এই মৃত্যুর জন্য কার কার চালক যুবকই দাই। সে তানিশাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করছি। কার চালককে আমরা চিনি না। তবে চমেক হাসপাতালে সামিন নামে ২২ বছরের কার চালক সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন তানিশা আমার বন্ধু। কাতার থেকে সে কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে বাড়িতে আসেন। তানিশা নিজ ইচ্ছায় আমার কারে উঠেছেলেন। কারটি আমি চালাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ কারটি এক্সপ্রেসওয়ের দেয়ালে ধাক্কা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তানিশাকে আমিই চমেকে নিয়ে আসি। পতেঙ্গা বিচ থেকে ফিরে আসার পথে দুর্ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চমেক থেকে পুলিশ সামিনকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায় পুলিশের কাছে। মেডিকেলের সামনে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে জরুরি বিভাগের সামনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তানিশার বাবা আবু তালেব পুলিশের গাড়ির সামনে বসে পড়েন। তিনিও সেই তরুণকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। পুরে পুলিশ আটক যুবককে নিয়ে থানায় চলে যায়।
সময়ের আলো/জোই