গাজীপুরের শ্রীপুরে ইন্দোনেশিয়ান জাতের ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন এক চীনা নাগরিক। উচ্চ ফলন, আকর্ষণীয় আকার ও লাভজনক বাজার সম্ভাবনার কারণে এ মরিচকে দেশে সম্ভাবনাময় নতুন ফসল হিসেবে দেখছেন কৃষিসংশ্লিষ্টরা।
শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের হায়েতখারচালা গ্রামে এক একর জমিজুড়ে এই মরিচের চাষ করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সর্বোচ্চ প্রায় দুই ফুট উচ্চতার গাছে ঝুলছে ১২ থেকে ১৪ ইঞ্চি লম্বা মরিচ। প্রতিটি গাছে ৩০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত মরিচ ধরেছে। অধিক ফলনের কারণে গাছগুলো ভেঙে পড়া রোধে প্রতিটি গাছে খুঁটি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।
উদ্যোক্তা চীনা নাগরিক ছেন জিয়েন গাও জানান, ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ ইন্দোনেশিয়ায় বেশ জনপ্রিয় এবং চায়নিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মূলত নিজস্ব রেস্তোরাঁর চাহিদা মেটাতে তিনি এ মরিচ চাষ শুরু করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে শাকসবজি চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছি, ভবিষ্যতে বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
মরিচ ক্ষেতের পরিচর্যায় নিয়োজিত শ্রমিক আরিফ হোসেন বলেন, এই মরিচের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। অল্প জমিতেই দুই থেকে আড়াই মণ পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ এই ক্ষেত দেখতে আসছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আব্দুল কাদির প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দীন বলেন, এ ধরনের ভিন্নধর্মী চাষাবাদ এলাকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। স্থানীয় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
জমির মালিক আতিকুর রহমান প্রধান জানান, তিনি এক একর জমি লিজ দিয়েছেন। চলতি বছরে সফলতা পাওয়ায় ওই চীনা নাগরিক আরও জমি লিজ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, চাপাই-কোপাই মরিচ দেখতে অনেকটা ক্যাপসিকামের মতো হলেও এর ঝাল অনেক বেশি। চায়নিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এর চাহিদা থাকায় এটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি এবং পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছি।
তিনি আরও বলেন, দেশের মাটিতে এ মরিচের ভালো উৎপাদন হওয়ায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ ভবিষ্যতে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এফআর