বলিউড সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন ভারতীয় দক্ষিণি সিনেমার অভিনেত্রী সারা অর্জুন। সিনেমায় রণবীর কাপুরের সঙ্গে তার রসায়ন প্রশংসিত হয়। এরপর ‘ধুরন্ধর ২’-এর সাফল্যের মাঝেই এক বড় বাজেটের সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন সারা অর্জুন। শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় সিনেমার স্বর্ণযুগের আইকন মধুবালার বায়োপিকে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রযোজক সঞ্জয়লীলা বানসালি এবং পরিচালক জ্যাসমিত কে রিন এই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। এতে তুলে ধরা হবে হিন্দি চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ, মধুবালার অভিনয়-জীবন এবং তার আড়ালের ব্যক্তিগত সংগ্রাম। এটি মূলত মধুবালার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তৈরি করার পরিকল্পনা। তবে এই প্রজেক্ট নিয়ে এখন পর্যন্ত নির্মাতাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সিনেমাটির কো-প্রডাকশনের কাজ চলছে। শুটিং শুরু হবে এই বছরের শেষে।
ইতিমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন সারা অর্জুন। একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘মধুবালা’র সৌন্দর্য ও মোহনীয়তার প্রতি সুবিচার করতে সারা এক উল্লেখযোগ্য শারীরিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাবেন। পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজসজ্জা থেকে শুরু করে বাচনভঙ্গির প্রশিক্ষণ এবং ‘লুক টেস্ট’ প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপরই বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। সেই স্বর্ণযুগকে নিখুঁত নির্ভুলতার সঙ্গে পুনর্নির্মাণ করতে নির্মাতারা চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছেন না।
আরও পড়ুন
পরিচালক জাসমিতকে রিন এই সিনেমাটিকে একটি উচ্চমাত্রার নাটকীয় গল্প হিসেবে নির্মাণ করছেন, যেখানে থাকবে ট্র্যাজিক আবেগের গভীর স্তর। এটি মধুবালার অসাধারণ কিন্তু বেদনাদায়ক জীবনের প্রতি এক গভীর আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি হতে যাচ্ছে।
১৯৫০-এর দশকের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত তারকা মধুবালা দুই দশকের ক্যারিয়ারে ৭০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। কমেডি থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক ড্রামা, সবখানেই তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। মৃত্যুর এত বছর পরও তার পর্দা উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। বনসালির প্রযোজনা আর সারার অভিনয়ের রসায়ন এই বায়োপিককে বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা সারা অর্জুন ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে হঠাৎ করেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছেন। এখন দেখার বিষয়, মধুবালার মতো কিংবদন্তি চরিত্রে তিনি দর্শকদের মন কতটা জয় করতে পারেন।
এএডি/