বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক দুটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে পাঁচটি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, পাঁচটি আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ও বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে বিজিবির পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধীন টারগুপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪-এর মধ্যবর্তী ছায়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ৪-৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে বিজিবি চ্যালেঞ্জ করলে তারা কয়েকটি ব্যাগ ফেলে গহিন জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই ব্যাগগুলো থেকে পাঁচটি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, পাঁচটি আইইডি, একটি মেটাল ডিটেক্টর, একটি সোলার প্যানেল, পাওয়ার ব্যাংক, মুঠোফোন এবং বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাইন ও আইইডিগুলো বর্তমানে বালুর বস্তা দিয়ে ঘিরে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ করে টহল জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে এগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য খবর দেওয়া হয়েছে।
একই দিন দুপুরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীন বাইশফাঁড়ী বিওপির একটি দল সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস সংলগ্ন আমবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিন কেজি দাহ্য পাউডার, তিন কেজি মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), তিন লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল ও তিন রোল নাইলন কাপড় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত রাসায়নিক পদার্থগুলো পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং পলাতক সন্ত্রাসীদের শনাক্তে অভিযান চলছে
১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, সীমান্তে বিদ্যমান বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি সীমান্তে আইইডি ও মাইন স্থাপনের যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এই অপতৎপরতা বন্ধে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকবে।