ইতিবাচক সূচনা, ফল অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সব সংশয় ও আশঙ্কা অতিক্রম করে গতকাল শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সরাসরি বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের শান্তি

2026-04-12T00:29:36+00:00
2026-04-12T00:30:12+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইতিবাচক সূচনা, ফল অনিশ্চিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৯ এএম  আপডেট: ১২.০৪.২০২৬ ১২:৩০ এএম
বিমানে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি : সংগৃহীত
সব সংশয় ও আশঙ্কা অতিক্রম করে গতকাল শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সরাসরি বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম এত উচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা; যা নিজেই একটি বড় কূটনৈতিক ঘটনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে শুরুটা আশাব্যঞ্জক বলেই ইঙ্গিত মিলছে। একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, আলোচনার পরিবেশ ‘ইতিবাচক’, পক্ষগুলো একে অন্যের অবস্থান শুনছে এবং কিছু বিষয়ে প্রাথমিক অগ্রগতির ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।

তবে এই ইতিবাচকতার আড়ালে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে স্পষ্টভাবেই। আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, বেশিরভাগ  
তথ্যই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ভেতরে সীমাবদ্ধ। আর বাইরে আসা তথ্য যাচাই করাও কঠিন। লেবানন ইস্যু, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের জব্দ সম্পদ; এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে এখনও স্পষ্ট কোনো সমঝোতার কথা জানা যায়নি। 

উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে ইসলামাবাদের এই সংলাপ একই সঙ্গে সম্ভাবনা ও সংশয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে যেখানে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খুলে যেতে পারে, আবার যেকোনো মুহূর্তে তা থমকে যাওয়ার ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ইতিবাচক শুরু হলেও এই আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ হঠাৎ করেই বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল সেখানে যে বৈঠকে বসেছে, সেটিকে অনেক বিশ্লেষক ‘ঐতিহাসিক মোড়’ হিসেবে দেখছেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি উচ্চ পর্যায়ের সংলাপ কার্যত বন্ধ ছিল। মাঝেমধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হলেও মুখোমুখি বসা প্রায় অসম্ভবই ছিল। সেই জায়গা থেকে এই বৈঠক নিজেই একটি বড় অগ্রগতি। এই আলোচনার ভেন্যু হিসেবে সেরেনা হোটেলকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা কয়েক দিন আগেই পুরোপুরি খালি করে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনা হয়। শহরের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও পাকিস্তানের পতাকা টাঙিয়ে ‘ইসলামাবাদ টকস’কে দৃশ্যমান করে তোলা হয়েছে।

ইরানের পক্ষে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যিনি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে শক্ত অবস্থানের একজন নেতা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স; যিনি এই যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও এখন শান্তি আলোচনার মুখ হয়ে উঠেছেন। এই নেতৃত্বের বিন্যাস থেকে বোঝা যায়, দুই পক্ষই আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তবে নিজেদের অবস্থান থেকেও সরে আসছে না।

‘ইতিবাচক পরিবেশে’ আলোচনা : আলোচনা শুরুর আগেই একটি বড় প্রশ্ন ছিল এই বৈঠক আদৌ সরাসরি হবে, নাকি পরোক্ষভাবে। প্রথমদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, দুই পক্ষ সরাসরি মুখোমুখি বসবে না। বরং পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে বার্তা আদান-প্রদান করবে; যা অতীতে বহুবার দেখা গেছে। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে পরোক্ষ আলোচনার কথাই তুলে ধরেছিল। 

সিএনএনও জানিয়েছির, তারা নিশ্চিত হতে পারছে না আসলে কী ধরনের ফরম্যাটে আলোচনা চলছে। কিন্তু পরে আলজাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একই কক্ষে বসেই পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তিন পক্ষই আলোচনা করছে। এই পরিবর্তনকে কূটনৈতিক দৃষ্টিতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ সরাসরি বসা মানে শুধু কথোপকথন নয়, বরং পারস্পরিক সংকেত দেওয়া যে আপনি অন্তত শুনতে রাজি। সরাসরি বৈঠক মানেই যদিও সমঝোতা নয়, কিন্তু এটি একটি মানসিক বাধা ভাঙার প্রথম ধাপ।

আলোচনা শুরুর পরপরই সবচেয়ে বড় যে বার্তাটি এসেছে, তা হলো: পরিবেশ ‘ইতিবাচক’।  আলজাজিরা তাদের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনায় দুই পক্ষ একে অন্যের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছে এবং বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু টেবিলে এসেছে; যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতির শর্ত, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক বিষয়। দুই ঘণ্টা পর নৈশভোজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। এই ধরনের বিরতি অনেক সময় কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনের সুযোগ তৈরি হয়। অনেক সময় বড় সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতি এমন অনানুষ্ঠানিক পরিসরেই হয়। তবে পুরো বৈঠকই রুদ্ধদ্বার হওয়ায় বাইরে আসা তথ্য খুব সীমিত। আলজাজিরা বলেছে, তথ্য ধীরে ধীরে আসছে এবং তা যাচাই করা কঠিন। অর্থাৎ ‘ইতিবাচক’ শব্দটি আশাব্যঞ্জক হলেও বাস্তব অগ্রগতি কতটা; তা এখনও পরিষ্কার নয়।

লেবানন ইস্যুতে অগ্রগতির ইঙ্গিত : আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হচ্ছে লেবানন ইস্যু। সূত্রগুলো বলছে, লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পরিধি নিয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই ইঙ্গিত অনুযায়ী ইসরাইলের অভিযান দক্ষিণ লেবাননের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে এবং রাজধানী বৈরুতে আর হামলা নাও হতে পারে। যদি এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়, তা হলে তা আঞ্চলিক উত্তেজনা অনেকটাই কমাতে পারে। কারণ বৈরুত লক্ষ্য করে হামলা হলে সংঘাত দ্রুতই বড় আকার নিতে পারে এবং আরও দেশ এতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

লেবানন ইস্যুটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সরাসরি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের একটি ফ্রন্ট। কিন্তু বাস্তবে এটি তাদের প্রভাববলয়ের সংঘর্ষ। এই জায়গায় কোনো সমঝোতা মানে শুধু একটি যুদ্ধক্ষেত্র শান্ত হওয়া নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা। তবে সবকিছু এখনও ‘ইঙ্গিত’ পর্যায়ে। নিশ্চিত কোনো চুক্তি হয়নি।

সম্পদ ছাড় নিয়ে জল্পনা, হোয়াইট হাউসের অস্বীকার : আলোচনার সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে ইরানের জব্দ করা বৈদেশিক সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে ইরানের বিপুল অর্থ আটকে আছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইরানের একটি সূত্র দাবি করে, এই সম্পদের একটি অংশ ছাড় করতে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিশেষ করে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়। এ খবর দ্রুতই কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে। কারণ, সম্পদ ছাড় মানে শুধু অর্থনৈতিক স্বস্তি নয়, বরং এটি একটি বড় রাজনৈতিক ছাড়, যা ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জয় হিসেবে দেখা হতে পারে। 

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সঙ্গে এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। অর্থাৎ এটি এক ধরনের ‘কৌশলগত বিনিময়’। তবে দ্রুতই হোয়াইট হাউস এই দাবি অস্বীকার করে। তারা স্পষ্ট করে জানায়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথমে জানায়, বেশ কয়েকটি মার্কিন জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। এটি এমন একটি পদক্ষেপ, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারত। কিন্তু ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, কোনো মার্কিন জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেনি। এই বিরোধপূর্ণ তথ্য পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্য নিজেই একটি কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে ওঠে; এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে।

আলোচনার সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন, যা পুরো কূটনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, চলমান সংঘাতে ইরান ‘খুব বড় হার’ স্বীকার করছে। তার ভাষায়, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ধরনের বক্তব্য সাধারণত আলোচনার পরিবেশে চাপ তৈরি করার কৌশল হিসেবে দেখা হয়। এভাবে নিজের শক্তি প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষকে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।

একই সঙ্গে ট্রাম্প জ্বালানি প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক খালি ট্যাঙ্কার যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আসছে তেল ও গ্যাস নিতে। সংঘাতের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জ্বালানি শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং উন্নত মানের তেল মজুদ রয়েছে।

মূল বৈঠকের আগে কূটনৈতিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই পক্ষই আলাদাভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

এই বৈঠকগুলোকে ‘প্রস্তুতিমূলক কূটনীতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ মূল আলোচনায় বসার আগে মধ্যস্থতাকারী দেশের সঙ্গে অবস্থান পরিষ্কার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, তারাও শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আলোচনার আগেই ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘পূর্ণ অবিশ্বাস’ নিয়েই এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তিনি এসব ঘটনাকে ‘কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

আলোচনার সমান্তরালেই সামরিক প্রস্তুতিও থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বহর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতিরক্ষা ঠিকাদার লকহিড মার্টিন সফটওয়্যার উন্নয়নের জন্য নতুন চুক্তি পেয়েছে, যার আওতায় উন্নত ডেটা লোড তৈরি করা হবে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার সংঘর্ষে এফ-৩৫-এর কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা আজাদেহ মোশিরি মনে করেন, এই মুখোমুখি বৈঠক নিজেই একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। 

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের একই টেবিলে বসা এটি কূটনীতির দিক থেকে বড় অর্জন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই আলোচনার সাফল্য কেমন হবে, তা নির্ভর করছে আপনি কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন তার ওপর।

এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। দাম বেড়েছে, সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবিক দিক থেকেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য। 

অন্যদিকে ইরানের ভেতরে ভিন্ন ধরনের উদ্বেগও রয়েছে। বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে চাপে আছে। তারা আশা করছে, এই আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি আসবে। কিন্তু একই সঙ্গে অনেকেই আশঙ্কা করছে, নতুন নেতৃত্ব আরও কঠোর হতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের স্মৃতি এখনও তাজা।
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। 

তারা বলছে, এই আলোচনা একদিকে বড় সম্ভাবনার দরজা খুলেছে, অন্যদিকে গভীর অনিশ্চয়তার ছায়াও রেখে দিয়েছে। একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি হলে বিশ্ব স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে হলে এখনও অনেক জটিল বাধা পেরোতে হবে।



  বিষয়:   ইসলামাবাদ  যুক্তরাষ্ট্র  ইরান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: