শিক্ষকদের দক্ষতার দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা

দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ইউনেস্কো প্রকাশিত বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যানের তথ্যে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রতিবেদন

2026-04-12T10:47:27+00:00
2026-04-12T10:51:07+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা
শিক্ষকদের দক্ষতার দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম  আপডেট: ১২.০৪.২০২৬ ১০:৫১ এএম
সংগৃহীত ছবি
দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ইউনেস্কো প্রকাশিত বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যানের তথ্যে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে বাংলাদেশের অবস্থান সবার পেছনে। 

এখানে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ২০২৪, নেপালের ২০২৫, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের ২০২৩ এবং মালদ্বীপের ২০২২ সালের তথ্য ধরে বিশ্লেষণটি করা হয়েছে। কেননা নেপাল বাদে বাকি দেশগুলোর সর্বশেষ প্রতিবেদন ওই নির্দিষ্ট বছরগুলোতেই প্রকাশ হয়।

ইউনেস্কোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্তরে গড়ে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার মাত্র ৫৫ শতাংশ। ইউনেস্কো এ হার নির্ধারণে দুটি মানদণ্ড বিবেচনা করেছে— প্রথমত, শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট স্তরে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেয়েছেন কিনা। 

দ্বিতীয়ত, তাদের সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা সে স্তরের জন্য উপযুক্ত কিনা। এ মানদণ্ড অনুযায়ী দেখা যায়, বাংলাদেশে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ দুই স্তরেই দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি স্পষ্ট।

অন্যদিকে এ সূচকে সাতটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটিতে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে ন্যূনতম যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৯৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং সার্বিকভাবে মাধ্যমিক স্তরে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।

দেশে শিক্ষার মান দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ, যার অন্যতম প্রধান কারণ দক্ষ শিক্ষকের অভাব। এ সংকটের পেছনে মূলত দুটি কারণ বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। প্রথমত, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক বিবেচনা, স্বজনপ্রীতি কিংবা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

দ্বিতীয়ত, বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। অনেক সময় সরকার প্রশিক্ষণের জন্য বিদ্যালয়গুলোর কাছে শিক্ষকদের তালিকা চাইলেও, প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না পাঠিয়ে স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে নাম পাঠিয়েছে। ফলে গণিতের প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন বাংলা বা ধর্মীয় শিক্ষার শিক্ষক। ফলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কার্যকর না হয়ে অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও শিক্ষকরা তা পাঠদানে প্রয়োগ করতে পারছেন না।


পরিসংখ্যানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার বিবেচনায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভুটান। দেশটিতে মাধ্যমিক স্তরে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে আছে যথাক্রমে নেপাল ও ভারত। দেশ দুটিতে এ হার যথাক্রমে ৯৭ দশমিক ৪ ও ৯২ দশমিক ৩০ শতাংশ। এছাড়া শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে এ হার যথাক্রমে ৮০ দশমিক ৪ ও ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

শিক্ষাবিদরা জানান, শিক্ষকদের দক্ষতার এ ঘাটতি সরাসরি শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফলে প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন বার্ষিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত মানের দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা, যাতে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী হয়। এছাড়া দক্ষ শিক্ষক তৈরির জন্য সব স্তরে প্রি-সার্ভিস প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেওয়া। 

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   শিক্ষক  দক্ষতা  দক্ষিণ  এশিয়া  বাংলাদেশ 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: