ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা নতুন কোন বিষয় নয়। এর আগেও নানা বিষয়ে আলোচনা চলেছে বছরের পর বছর। ২০১৫ সালে ইরান পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার আগেও কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। তবে এবার আলোচনায় আরও অনেক বেশি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
দীর্ঘ ৪০ দিনের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যে নতুন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা।
ইসলামাবাদে শুরু হওয়া আলোচনা শেষ হয়ে গেছে, তবে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও একে ‘কূটনীতির শেষ’ হিসেবে দেখতে নারাজ ইরান।
এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক ঘণ্টায় কী ঘটতে চলেছে? কিন্তু এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। যেহেতু তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, সেহেতু তার মতামত শোনা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে সমঝোতা চুক্তিতে কী কী সম্ভব হয়নি, সে বিষয়ে শুনেছি।
তার কথায় মনে হয়েছে, একটি চুক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং ইরান এখনো সেটি বিবেচনায় নিয়ে ফিরে আসতে পারে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী বলতে চলেছেন? তিনি এখনো কিছু বলেননি। আর এই নীরবতা খুবই উদ্বেগের। তার এই নীরবতা প্রচণ্ড চিৎকারের মতো কানে লাগছে।
কারণ, তার মাত্র কয়েকদিন আগের একটি টুইটই পৃথিবীকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গিয়েছিল, তিনি লিখেছিলেন, একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে, আর কখনো ফিরে আসবে না।
কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টার আরেকটি কঠিন বাস্তবতা হলো, যুদ্ধের দিকে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা। অবশ্য এখনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে এবং এর মেয়াদ আরও প্রায় ১০ দিন বাকি। একমাত্র ইসরায়েল ছাড়া পাকিস্তানসহ পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাইবে এই যুদ্ধবিরতি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বহাল থাকুক।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দেয়।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়, সেই সঙ্গে একটি শান্তি আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তও হয়। এরই সূত্র ধরে শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে ওই আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু ২১ ঘণ্টার এই আলোচনা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। আর এরপর ট্রাম্পের কোন টুইট না আসায় এক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, শান্তি আলোচনা বা যুদ্ধবিরতি টিকবে কিনা?
/ইউএমএইচ