মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি; এটি অনেকটাই অনুমিত ছিল। তবু প্রশ্নটা এখন আরও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে: এরপর কী? এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রকে এমন কিছু কঠিন বিকল্পের সামনে দাঁড় করিয়েছে, যেগুলোর প্রতিটিই ঝুঁকিপূর্ণ।
একদিকে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথ। অন্যদিকে আবার যুদ্ধের সম্ভাবনা, যা ইতিমধ্যে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যেদিকেই যাওয়া হোক, তার কৌশলগত ও রাজনৈতিক মূল্য চড়া হবে।
ভ্যান্স আলোচনার বিস্তারিত খুব কমই প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘লাল দাগ’ স্পষ্ট করে দিয়েছে- কোন শর্তে তারা আপস করবে, সেটিও জানিয়েছে। কিন্তু ইরান সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। মূলত তাদের দাবি ছিল, ইরান যেন পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। এই অবস্থান আগের ব্যর্থ আলোচনার সঙ্গেও মিল খুঁজে দেয়।
গত ফেব্রুয়ারিতেও জেনেভায় এমন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এরপরই ট্রাম্প নির্দেশ দেন টানা ৩৮ দিনের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার। সেই হামলায় ইরানের সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্রভান্ডার এবং উৎপাদন অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল, এই শক্তি প্রদর্শনের পর ইরান অবস্থান বদলাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
ইরানও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে- চাপ দিয়ে তাদের নত করা যাবে না। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুদ্ধের ক্ষতি তাদের অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে। তারা তাদের অধিকার রক্ষায় আরও দৃঢ়। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তাদের অবস্থান বদলায়নি। তাদের মতে, পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক চুক্তির মধ্যেই পড়ে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হরমুজ প্রণালি নিয়ে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এটি বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কা দেয়। এখন এই প্রণালি পুনরায় চালু করাও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এর সঙ্গে জড়িয়েছে আরও দাবি- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
যুদ্ধবিরতি আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য। এটি শেষ হবে ২১ এপ্রিল। ট্রাম্প চাইলে আবার সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন। কিন্তু সেটি রাজনৈতিকভাবে সহজ সিদ্ধান্ত নয়। যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
সবশেষে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী মনে করছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে তারা শক্তি প্রদর্শনে সফল। ইরান মনে করছে তারা টিকে গেছে। এই অবস্থায় আপসের মানসিকতা খুব কম। ফলে সামনে যে পথ, তা সহজ নয়- বরং দীর্ঘ, জটিল এবং অনিশ্চয়তায় ভরা।
সময়ের আলো/কেএইচও