ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আশা ভোঁসলের প্রয়াণের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তার রেখে যাওয়া বিপুল সম্পদ এবং উত্তরাধিকার প্রসঙ্গ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অগণিত হিট গান উপহার দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও নিজেকে এক শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তার মোট সম্পদের পরিমাণ কয়েকশ কোটি রুপির মধ্যে। যদিও এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য রয়েছে- কিছু প্রতিবেদনে ২০০-২৫০ কোটি রুপি, আবার কোথাও ৮০-১০০ কোটি রুপির কথাও বলা হয়েছে। তবে সব হিসাব মিলিয়ে এটি স্পষ্ট, সংগীতের বাইরে ব্যবসা ও বিনিয়োগে সাফল্যের কারণেই তার সম্পদের পরিধি এত বড় হয়েছে।
শুধু গান নয়, তিনি ছিলেন একাধারে সফল উদ্যোক্তাও। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ড Asha’s বেশ পরিচিতি পেয়েছে। দুবাইয়ে যাত্রা শুরু করা এই চেইন পরে কুয়েত, বাহরাইন এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বিস্তার লাভ করে। পাশাপাশি মুম্বাই ও পুনেতে তার একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তিও ছিল, যা তার বিনিয়োগ দক্ষতার প্রমাণ দেয়।
আরও পড়ুন
তার আয়ের বড় অংশ এসেছে গান থেকে পাওয়া রয়্যালটি, আন্তর্জাতিক কনসার্ট এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে। ২০টিরও বেশি ভাষায় ১২ হাজারের বেশি গান গাওয়ার কৃতিত্ব তাকে এনে দেয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান।
তবে সাফল্যের আড়ালে ছিল গভীর ব্যক্তিগত বেদনা। জীবদ্দশায় দুই সন্তানকে হারান তিনি- মেয়ে বর্ষা এবং ছেলে হেমন্ত। এই শোকের ভার নিয়েই জীবনের শেষ সময় পার করেন কিংবদন্তি এই শিল্পী।
বর্তমানে তার একমাত্র জীবিত ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এবং নাতি-নাতনিরাই তার সম্পদের উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ও পদ্মবিভূষণে ভূষিত এই গুণী শিল্পী শুধু আর্থিক সম্পদই নয়, রেখে গেছেন এক অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। তার কণ্ঠ, সৃষ্টিশীলতা এবং সংগীতে অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বহুদিন।
এএডি/