২৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের এক নীরব সংকট এখন বড় উদ্বেগে রূপ নিচ্ছে। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার মান

2026-04-13T11:10:00+00:00
2026-04-13T14:24:07+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা
২৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ এএম  আপডেট: ১৩.০৪.২০২৬ ২:২৪ পিএম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছবি : ইউনিনেফ
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের এক নীরব সংকট এখন বড় উদ্বেগে রূপ নিচ্ছে। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার মান নিয়েই প্রশ্ন উঠছে নতুন করে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ২৬ হাজার এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক পদ শূন্য পড়ে আছে, যা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে পূরণ হয়নি।

এই সংকট কাটাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাঠে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি উপজেলায় শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করে একটি ‘শিক্ষক পুল’ গঠন করতে হবে। সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি নিজস্ব তহবিল থেকে এসব শিক্ষকের সম্মানী প্রদান করবে।
আরও পড়ুন

তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, এটি মূল সমস্যার সাময়িক সমাধান মাত্র। কারণ দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং দক্ষ শিক্ষকের অভাবই বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ। বিশেষ করে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে ধীরগতির বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার গুণগত মানেও। বিভিন্ন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে এইচএসসি উত্তীর্ণদের সক্ষমতা গড়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমতুল্য বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

এ উদ্বেগ আরও জোরালো করেছে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন। সেখানে বলা হয়েছে, একজন শিক্ষার্থী ১১ বছর পড়াশোনা করলেও কার্যত সে মাত্র সাড়ে ছয় বছরের সমতুল্য শিক্ষা অর্জন করছে। অর্থাৎ শেখার ক্ষেত্রে প্রায় সাড়ে চার বছরের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আর্থসামাজিক বাস্তবতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রশিক্ষণের অভাব- সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বেতন কাঠামো উন্নয়নসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এএডি/


  বিষয়:   শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান  শিক্ষক  পদ  শূন্য  ইউনিনেফ  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: