বাংলা নববর্ষ বরণ করে নিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে বর্ণিল ও জমজমাট আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উৎসবের আমেজে ইতোমধ্যেই রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন বিভাগ নানা আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন শোভাযাত্রার নান্দনিক মোটিফ। বাঁশ, কাঠ, কাগজ ও রঙে ফুটে উঠছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য-পাখি, পশু, মুখোশ, টেপা পুতুল, মাটির সরা, ষড়াচিত্রসহ নানা উপকরণ।
শিক্ষার্থীরা জানান, এসব মোটিফের মাধ্যমে ঐতিহ্যের পাশাপাশি সমকালীন সামাজিক বার্তাও তুলে ধরা হচ্ছে।
চৈত্রসংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য বাসভবনে উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।
সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে পুরাতন কলা ভবন সংলগ্ন মৃৎ মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বালন ও সমবেত সংগীত ‘এসো হে বৈশাখ’-এর মাধ্যমে বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে চারুকলা বিভাগের তত্ত্বাবধানে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।
এ শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, হল, অফিস, স্কুল-কলেজসহ ক্যাম্পাস বাসী অংশ নেবেন। শোভাযাত্রাটি মৃৎ মঞ্চ থেকে শুরু হয়ে সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হবে। সেরা তিনটি দলকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানানো হয়।
বিকাল ৫টা থেকে টিএসসি চত্বরে মেলা ও লোকজ আপ্যায়ন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এবং জাকসুর সমন্বয়ে সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অন্যদিকে বাংলা বিভাগের উদ্যোগে মহুয়া মঞ্চে সকাল ৯টা থেকে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রদীপ প্রজ্বালন, বৈশাখী ফলাহার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, মধ্যাহ্নভোজ, লোক ক্রীড়া ও শিক্ষকদের পরিবেশনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ দুই দিনব্যাপী আয়োজন করেছে বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানমালা। ১৩ এপ্রিল বিকাল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের উদ্বোধনের মাধ্যমে ‘চৈত্রের ডাক’ শীর্ষক ঢাকের বাদন, বর্ষবিদায় সংগীত, পুতুলনাট্য, নৃত্য এবং যাত্রা ও রামায়ণ গানের মতো ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।
১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রার পর একই স্থানে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে থাকবে প্রভাতী সংগীত, শিক্ষার্থীদের ‘পরম্পরা’ পরিবেশনা, ‘প্রলয় বৈশাখী’ নৃত্য, ভেন্ট্রিলোকুইজম ‘কণ্ঠ মায়া’, পানি খেলা, পদাবলি কীর্তন, জারিগান, কালিকাচসহ বিভিন্ন লোকজ পরিবেশনা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই