বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হতে যাচ্ছে সাত দিনব্যাপী ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ও বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে আগামী ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে বাংলা একাডেমির ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ ভবনের শহীদ মুনির চৌধুরী সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাংলা নববর্ষ, চৈত্র সংক্রান্তি এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে এ আয়োজন করা হচ্ছে।
বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিসিক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উন্নয়নে কাজ করে আসছে। উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ, ঋণ সহায়তা এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বছরজুড়ে বিভিন্ন পণ্য মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকে।’
বিসিকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ও বাংলা একাডেমি যৌথভাবে সত্তর দশকের শেষার্ধ থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বৈশাখী মেলা আয়োজন করে আসছে। নববর্ষকে উৎসবমুখর করে তোলে এই বৈশাখী মেলা। এটি মূলত সর্বজনীন লোকজ মেলা। এ মেলা অত্যন্ত আনন্দঘন হয়ে থাকে।’
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, ‘এই মেলায় কৃষিজাত দ্রব্য, কারুপণ্য, লোকশিল্পজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, জিআই পণ্য যেমন জামদানি, শতরঞ্জি ও শীতলপাটি, কুটির শিল্পজাত সামগ্রী, সব প্রকার হস্তশিল্পজাত ও মৃৎশিল্পজাত সামগ্রী পাওয়া যাবে। এছাড়া শিশু-কিশোরদের খেলনা, মহিলাদের সাজ-সজ্জার সামগ্রী এবং বিভিন্ন লোকজ খাদ্যদ্রব্য থাকবে মেলায়। মেলায় বিনোদনেরও ব্যবস্থা থাকবে।’
আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় মোট ১৬০টি স্টল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চামড়াজাত পণ্যের ৭টি, জামদানির ৬টি, নকশিকাঁথার ৪টি, বস্ত্রের ৪৪টি, শতরঞ্জির ৫টি এবং মণিপুরি শাড়ির ২টি স্টল রয়েছে। এছাড়া কারুশিল্পী জোন, শিশুদের বিনোদন জোন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ ও বায়স্কোপের জন্য ১৩টি স্টল নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রান্তিক কারুশিল্পীদের জন্য ১৩টি স্টল বিনামূল্যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর জন্য ২টি এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য ১টি স্টল থাকবে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ১৪ এপ্রিল সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
এএডি/