পোশাকে মানুষের রুচি, ব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতি, সৌন্দর্য, আদব ও তাকওয়ার প্রকাশ পায়। পোশাক মানুষের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে। পোশাক মানুষকে বেহায়াপনা, বেল্লেপনা ও বেপর্দা থেকে হেফাজত করে। সুন্নতি পোশাক মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচায়, জান্নাতের দিকে ধাবিত করে। তাই পোশাক পরিধানের বিষয়ে কুরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। কুরআনে পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে তাকওয়া অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে বনি আদম! তোমাদের লজ্জা ঢাকার ও বেশভূষার জন্য আমি তোমাদের পোশাক দিয়েছি এবং তাকওয়ার পোশাকই সর্বোকৃষ্ট।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২৬)
পোশাকেই প্রকাশ পায় মানুষের তাকওয়া ও আল্লাহভীতি। সুন্নতি পোশাক জানিয়ে দেয় নারী-পুরুষের ভেতরকার আল্লাহভীতি। সুন্নতি পোশাক পরিধানকারী মা-বোনদের কেউ উত্ত্যক্ত করতে পারে না। সুন্নতি পোশাকে ইজ্জত-আব্রু ও সতীত্ব সুরক্ষিত থাকে। যারা শালীন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে, তারা অন্যদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। অসৌজন্যমূলক পোশাক ইসলাম সমর্থন করে না। অসৌজন্যমূলক পোশাক পরিধান করার ফলে সমাজে বেহায়াপনা ও বেল্লেপনা ছড়িয়ে পড়ে। সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। জিনা, ব্যভিচার, অশ্লীলতা, ধর্ষণ ও পরকীয়ার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণ, কন্যাগণ ও মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৯)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এক ব্যক্তি চিত্তাকর্ষক এক জোড়া কাপড় পরিধান করে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে পথ চলছিল। হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নিচে ধসিয়ে দেন। কেয়ামত পর্যন্ত সে এভাবে ধসে যেতে থাকবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩৭৩)
ইসলামে সুন্নতি পোশাক পরিধান করার নির্দেশনা রয়েছে। অসৌজন্যমূলক পোশাক পরিধানের জন্য গুনাহগার হতে হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! আপনি মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; এটাই তাদের জন্য উত্তম’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৩০)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘আপনি মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে না বেড়ায়’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৩১)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা কেয়ামত দিবসে ওই ব্যক্তির দিকে দৃষ্টি দেবেন না, যে ব্যক্তি অহংকারবশত লুঙ্গি- পায়জামা টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩৭২)
সুন্দর, মার্জিত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করার জন্য ইসলাম অনুমতি দিয়েছে। গুনাহ হয়, অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে, এমন পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। যেমনটি নামাজের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করার জন্য কুরআন মাজিদে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেকে সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করবে’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)। আল্লাহ আমাদের পোশাকের আদব ও সৌন্দর্য বজায় রাখার তওফিক দান করুন।
সময়ের আলো/জেডআই