লক্ষ্মীপুরে নিজের ছেলেসহ তিন জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পর তিন তলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসাপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে পৌর শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকায় পেশকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নাছির আহম্মদ (৫৫) মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে হঠাৎ তার ঘুমন্ত ছেলে কলেজ ছাত্র ইমরানকে (২১) কুপিয়ে আহত করে বাসা থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে নাছির তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। ঘটনার একপর্যায়ে নাছির আহমদ তিনতলা ভবনের ছাদে উঠে ঝাঁপ দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অন্য আহতরা হলেন, পেশকার বাড়ির গোলাম রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান এবং আব্দুল মান্নানের ছেলে নাছির আহমদ। তাদের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিহত নাছির আহমদ চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানায় ট্রাফিক বিভাগে চাকরি করতেন। তিনি ওই বাড়িতে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় ১ বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন।
সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকের অফিসার আরমান জানান, আহত অবস্থায় ৪ জনকে হাসপাতাল আনা হয়। এরমধ্যে কনস্টেবল নাছির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই