প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
৫০০ বছরের পুরনো পুকুর ভরাট করছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা। ছবি : সময়ের আলোকুমিল্লার চান্দিনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৫০০ বছরের পুরনো একটি বিশাল পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাইয়ূম খানের বিরুদ্ধে। পুকুরটি ভরাটের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। প্রশ্ন উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘন নিয়ে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের মহারং এলাকার এক একর একত্রিশ শতাংশের ওই পুকুরটি ওই অঞ্চলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রেখেছে তেমনি স্থানীয় কৃষকদের রেখেছে স্বস্তিতে। পুকুরটি ভরাট হলে বিপাকে পড়বে শতাধিক পরিবার।
পুকুর ভরাট বন্ধে স্থানীয় এক বাসিন্দা জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছেন।
জানা গেছে, ছাত্রদল নেতা কাইয়ূম খান গত ৯ এপ্রিল রাতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ড্রামট্রাকে বালু এনে ওই পুকুরের ভরাট কাজ শুরু করেন। টানা কয়েকদিন দিনরাত ভরাট কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পড়েন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিমুজ্জামান জানান, প্রায় ৫০০ বছর আগে খননকৃত পুকুরটির চার পাশে অন্তত কয়েক শত পরিবারের বসবাস। কাইয়ূম খান ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক পুকুরটি ভরাট করছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা সদরের বেশ কয়েকটি পুকুর অবৈধভাবে ভরাট করে আবাসন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এতে উপজেলা সদরের বাসিন্দারা ব্যবহারযোগ্য পানির সংকট থেকে শুরু করে কোনো প্রকার অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানি শূন্যতায় ভোগে। বর্তমানে ওই পুকুরটি ভরাট করলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা বিরাজ করছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা কাইয়ূম খাঁন। তিনি বলেন, পুকুরটি আমার খরিদকৃত। আমি পুকুর ভরাট করিনি। দীর্ঘদিন যাবৎ পুকুরের পাড় ঠিক করা হয়নি। এতে পুকুরের পাড় বিলীন হয়ে গেছে। আমি পুকুরের পাড় ভরাটকাজ শুরু করেছি। সেখানে আমার কিছু যানবাহন রাখার জায়গাও হবে।
এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি সেখানে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। বিষয়টি আমি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করব।
এফআর