বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মুক্তচিন্তার প্রতীক সংগীতকে কোনো ধরনের ভয় বা চাপ দিয়ে থামানো সম্ভব নয়- এমন দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর রমনা বটমূলে অনুষ্ঠিত পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাঙালির জীবন, মুক্তি ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সঙ্গে সংগীত গভীরভাবে জড়িত। তাই ভয় দেখিয়ে এই ধারাকে স্তব্ধ করার চেষ্টা সফল হবে না।
তিনি বলেন, সংগীত কেবল বিনোদন নয়; এটি বাঙালির আনন্দ, বেদনা, সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের ইতিহাসের অংশ। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে নানা সামাজিক আন্দোলনে গান মানুষের অনুপ্রেরণার শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাই কোনো অপশক্তি বা চাপ প্রয়োগ করে এই সাংস্কৃতিক ধারা থেকে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।
আরও পড়ুন
সারওয়ার আলী তার বক্তব্যে অতীতের কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি ২০০১ সালের রমনায় সংঘটিত নৃশংস ঘটনার কথাও স্মরণ করেন, যা আজও সংস্কৃতিকর্মীদের মনে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়েছে। তার মতে, এসব ঘটনা সংস্কৃতিচর্চাকে থামাতে পারেনি, বরং আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে সহিষ্ণুতা থাকলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতাও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। এমন সময়ে সংস্কৃতির চর্চা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এটি মানুষকে একত্রিত করে শান্তির পথে নিয়ে যায়।
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি বলেন, সমাজের কাছে তাদের প্রত্যাশা- একটি নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ, যেখানে শিল্পীরা ভয়হীনভাবে গান গাইতে পারবেন, সংস্কৃতিচর্চা করতে পারবেন। এমন একটি সমাজের স্বপ্নই তারা দেখেন, যেখানে চিন্তা ও জ্ঞান মুক্ত থাকবে এবং মানুষ মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে।
এএডি/