নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে ভিন্নধর্মী ঘরোয়া আয়োজনে মাতলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। রাজধানীর নিজ বাসভবনেই তিনি সাজিয়ে তুলেছেন এক ছোটখাটো বৈশাখী মেলা, যেখানে মিলেছে বাঙালির ঐতিহ্য, খাবার আর সংস্কৃতির নানা উপাদান।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রঙিন কাগজ, ঘুড়ি এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপকরণ দিয়ে পুরো বাড়িকে সাজানো হয় উৎসবের আমেজে। অতিথিদের জন্য ছিল দেশীয় নানা মুখরোচক খাবার- মুড়কি, মোয়া, বাতাসা, গজা থেকে শুরু করে ফলমূলের বাহার। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ, ভর্তা ও আরও বিভিন্ন বাঙালি পদে সাজানো হয় বিশেষ মেন্যু।
ঘরোয়া এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করতে বাড়ির আঙিনায় ছোট আকারে একটি বৈশাখী মেলার পরিবেশও তৈরি করেন জয়া আহসান। সেখানে ছিল ফুচকা বিক্রেতা এবং টিয়াপাখির ভবিষ্যদ্বাণীর মতো বিনোদনমূলক আয়োজন, যা অতিথিদের বাড়তি আনন্দ দেয়।
আরও পড়ুন
শুধু খাবার বা সাজসজ্জাই নয়, সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমেও জমে ওঠে উৎসব। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে অংশ নেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
নববর্ষ উদ্যাপন প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, বৈশাখ তার কাছে কেবল একটি উৎসব নয়, বরং বাঙালির শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার একটি সময়। তিনি জানান, বছরের এই কয়েকটি দিন তিনি অন্য কোথাও না গিয়ে নিজের সংস্কৃতির মধ্যেই থাকতে পছন্দ করেন।
তিনি আরও বলেন, নববর্ষে পান্তা-ইলিশসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার গ্রহণের পেছনে কৃষকদের প্রতি সম্মান জানানোও একটি উদ্দেশ্য। কারণ পান্তা ভাত কৃষিজীবী মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই এই খাবারের মাধ্যমে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি প্রচলিত রীতি তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, তার এই ঘরোয়া আয়োজন ছিল বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আনন্দকে কেন্দ্র করে এক আন্তরিক ও ব্যক্তিগত নববর্ষ উদ্যাপন, যা বৈশাখের আবহে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রার উচ্ছ্বাস।
এএডি/