তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ শুরু হয়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অবরোধের ফলে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
গত সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধের ফলে তেল, সার ও খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ইরানে মুদ্রাস্ফীতি আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, দৈনিক এই ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মধ্যে প্রায় ২৭৬ মিলিয়ন ডলারই আসবে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি বন্ধ হওয়া থেকে। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র কতটা কঠোরভাবে এই অবরোধ বজায় রাখতে পারে এবং ইরান জাস্ক টার্মিনালের মতো বিকল্প পথ ব্যবহার করে কতটা তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয় তার ওপর।
অবশ্য হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাস পর্যন্ত অবরোধ এলাকার বাইরে ইরানের প্রায় ১৫৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভাসমান অবস্থায় মজুত ছিল, যা স্বল্পমেয়াদে এই ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করতে পারে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কঠোর অবরোধের ঘোষণা দেন। এই অবরোধের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ করে দেশটির ‘ক্যাশ ফ্লো’ বা নগদ অর্থের প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া। এর মাধ্যমে চীনের মতো দেশগুলোকেও চাপে রাখতে চাইছেন ট্রাম্প, কারণ চীনের আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এলএনজির ৩০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়।
মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ আটক বা তল্লাশি করবে। বিশেষ করে যে জাহাজগুলো ইরানকে টোল প্রদান করেছে, সেগুলোকেও আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক নৌ-বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এত বিশাল সংখ্যক জাহাজের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ইরান ইতিমধ্যে এই অবরোধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছে। তেহরান সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ওই অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
/কহু