মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক- দুই দিকেই দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে পরিস্থিতি। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছালেও, অন্যদিকে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি এখন এক অনিশ্চিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছেই। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের নৌ-অবরোধের কারণে কোনো জাহাজ ওই পথ অতিক্রম করতে পারেনি। তবে স্যাটেলাইট তথ্য বলছে ভিন্ন কথা- অবরোধ সত্ত্বেও একাধিক জাহাজ চলাচল করেছে। এতে মার্কিন কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে তেল রপ্তানিতে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ওয়াশিংটন। এতে শুধু ইরান নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, যিনি এই অবরোধের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন
দীর্ঘদিনের বৈরিতা পেছনে ফেলে ইসরায়েল ও লেবানন সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগকে “ঐতিহাসিক” হিসেবে দেখছে, যা সীমান্ত উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও নতুন করে সংলাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই আবার আলোচনা শুরু হতে পারে। যদিও ইরান এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা যথেষ্ট শক্তিশালী।
বর্তমানে ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে কার্যত একটি শক্ত অবরোধ গড়ে তুলেছে তারা। এতে ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এএডি/