মাদারীপুর শহরের পানিছত্র এলাকার ‘কে আই হাসপাতাল’-এ বিষফোঁড়ার অপারেশন করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় এক নারী রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে নিহতের পরিবারের সদস্যরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় ডাক্তারের বিচারের দাবিতে মাদারীপুর-শরিয়তপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের সিরাজ আকনের স্ত্রী বিলকিস বেগম (৪০) পিঠে ফোঁড়ার প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ‘কে আই হাসপাতাল’-এ ভর্তি হয়। সেখানকার চিকিৎসক আহসান হাবিবের নেতৃত্বে বুধবার রাতে রোগীর অস্ত্রোপচার করানো হয়। এ সময় রোগীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে অপারেশনের কক্ষ থেকে পালিয়ে যান চিকিৎসক। পরে তড়িঘড়ি করে বিলকিস বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে মাঝপথেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলে প্রায় দেড়ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এদিকে ঘটনার পর হাসপাতালটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। উত্তেজনা বিরাজ করায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।
এর আগেও একাধিকবার হাসপাতাটিতে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ আছে।
নিহতের স্বজন হাসান মাদবর বলেন, সামান্য বিষফোড়া অপারেশন করাতে গিয়ে এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হাসপাতাল ও মালিকপক্ষের বিচার হওয়া উচিত। তাদের বিচার না হলে বারবার এধরণের ঘটনা ঘটবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের খবর পাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন। হাসপাতালটির বৈধতা এবং চিকিৎসকের বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে ভর্তি থাকা রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক, মালিকসহ সবাই পালিয়ে যাওয়ায় কারও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।