দীর্ঘ অচলাবস্থার পর অবশেষে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে এক জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ইরান মূলত এই প্রণালীকে আলোচনার টেবিলে একটি শক্তিশালী ‘লিভারেজ’ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্ট অনুযায়ী, লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির বাকি চার দিনের জন্য এই প্রণালী খোলা থাকবে। এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়টি লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ওপর শর্তযুক্ত থাকবে।
প্রণালীটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়া হলেও সামরিক জলযানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বজায় রেখেছে তেহরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একজন সামরিক সূত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ‘অ-বেসামরিক’ বা সামরিক জাহাজ এই পথ ব্যবহারের অনুমতি পাবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ওয়াশিংটনপন্থি কোনো শক্তির সামরিক জাহাজ এই প্রণালীতে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ‘সবুজ সংকেত’ পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান নতুন কিছু কঠোর নিয়ম ও সমন্বিত রুট ঘোষণা করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার আগে জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে আগাম সমন্বয় করতে হবে; জাহাজগুলোকে কেবল ইরানের নির্ধারিত ‘পাথওয়ে’ বা পথ অনুসরণ করে চলতে হবে; সম্প্রতি আইআরজিসি একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে নির্ধারিত পথটি ইরানের উপকূলরেখার অত্যন্ত নিকটবর্তী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতির শেষ কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া ইরানের একটি সুচিন্তিত কৌশল। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের শক্তি প্রদর্শন করছে। মাত্র চার দিন সময় বেঁধে দেওয়া এবং নিজস্ব উপকূলের খুব কাছ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বাধ্যবাধকতা মূলত পশ্চিমা বিশ্বের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির প্রয়াস বলেই মনে করা হচ্ছে।