বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন এক অর্থনৈতিক সমীকরণ সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার সুযোগ নিয়ে ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে ভারত- আর এই লেনদেনের অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে চীনের মুদ্রা ইউয়ানে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কিছু শোধনাগার সীমিত পরিসরে ইরানি তেল কেনা শুরু করেছে। এসব লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেল আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে, যেখানে পেমেন্ট নিষ্পত্তি করা হচ্ছে চীনা ইউয়ানে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কিছু নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা আনে। সেই সুযোগে সমুদ্রপথে ইরান ও রাশিয়ার তেল বাণিজ্য আবার কিছুটা সক্রিয় হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় শোধনাগারগুলো নতুন করে তেল আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি ডলারের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে বলে জানা গেছে। এই তেল পরিবহনের জন্য বড় আকারের ট্যাঙ্কারও ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজকে ভারতের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো- এই লেনদেনে ডলার বা স্থানীয় মুদ্রার পরিবর্তে চীনা ইউয়ান ব্যবহার। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বিকল্প মুদ্রা ব্যবহারের একটি বাড়তে থাকা প্রবণতার ইঙ্গিত।
অন্যদিকে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তার মতে, তেল বিপণন সংস্থাগুলো সব আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত তুলনামূলকভাবে কম দামে ও বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের কৌশল নিচ্ছে।
এএডি/