সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর কিল-ঘুষিতে শাহিদা খাতুন (১৯) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহিদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার সকালে উপজেলার ঘাটিনা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শাহিদা খাতুন একই জেলার বেলকুচি উপজেলার আজগড়া জামতৈল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে উল্লাপাড়া উপজেলার ঘাটিনা দক্ষিণপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে অন্তরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
স্থানীয়রা জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে শাহিদাকে কিল-ঘুসি মেরে গুরুতর আহত করে অন্তর। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তাতেও অবস্থার অবনতি হলে বগুড়ার হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শাহিদার বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকা দাবি করে আসছিল অন্তর ও তার পরিবার। যৌতুকের টাকা না পেয়ে বিভিন্ন সময় শাহিদাকে তারা শারীরিক নির্যাতন করতো।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রাত ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহিদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সময়ের আলো/জোই