শিশুদের মাঝে মিতব্যয়িতা ও সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন’। শিক্ষার্থীদের হাতে রঙিন ‘সঞ্চয়ী ব্যাংক’ এবং সঞ্চয় শুরু করার জন্য উপহার হিসেবে ‘নতুন চকচকে টাকা’ তুলে দিয়ে জমানোর অনুপ্রেরণা দিচ্ছে সংগঠনটি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার জামরিগুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ছোটোবেলা থেকেই শিশুদের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং সঞ্চয়ী মানসিকতা তৈরি করা।
বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মাহমুদুল ইসলাম মামুন। তিনি শিশুস্বর্গের এই সৃজনশীল উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, উপহার হিসেবে নতুন টাকা এবং ব্যাংক পেয়ে শিশুরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা তাদের মানসিক বিকাশে এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সুশৃঙ্খল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম ও সোহরাব আলী এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন জাকারিয়াসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও শিশুস্বর্গ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শিশুস্বর্গের প্রতিষ্ঠাতা কবির আহমেদ আকন্দ এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, শিশুদের কেবল সঞ্চয়ের তাত্ত্বিক কথা বললেই হয় না, বরং তাদের মধ্যে জমানোর বাস্তব উৎসাহ তৈরি করা প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই প্রতিটি শিশুর হাতে সুন্দর একটি ব্যাংকের পাশাপাশি নতুন নোট তুলে দেওয়া হয়েছে, যেন তারা আজ থেকেই তাদের জমানোর সুন্দর যাত্রা শুরু করতে পারে। এই ছোট্ট অভ্যাসই ভবিষ্যতে তাদের স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে সীমান্তের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগঠনটি শিশুদের শিক্ষাবৃত্তি, আইটি প্রশিক্ষণ এবং নারীদের স্বনির্ভরতা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে শিশু স্বর্গের বৃত্তিতে পড়ালেখা করছে ৬৫ জন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ২৫ জন দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। এছাড়াও শীতবস্ত্র বিতরণ, পাঠাগার স্থাপন এবং ‘রওশন আরা মেমোরিয়াল শিশুস্বর্গ বিদ্যালয়’ পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠনটি পঞ্চগড়ে মানবিক সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শিশুদের সঞ্চয়ী ব্যাংক উপহার দেওয়ার এই অভিনব উদ্যোগ স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সময়ের আলো/জোই