চলতি মৌসুম শেষে চেলসি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থকরা যখন পেছনে ফিরে তাকাবেন, তখন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এপ্রিলের গতকালের রাতটি তাদের কাছে এক ভাগ্যনির্ধারক মুহূর্ত হিসেবে মনে হতে পারে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে থাকা দুদল এবং নিজেদের চাকরি পাকাপোক্ত করার চেষ্টায় থাকা দুই তরুণ কোচ লিয়াম রোজেনিওর এবং মাইকেল ক্যারিক, উভয়ের জন্যই ম্যাচটি ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচটি ঝুলে ছিল সুতোর ওপর, যেখানে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হেসেছে ইউনাইটেড। ম্যাথিউস কুনহার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্যারিকের দল। এই জয় ইউনাইটেডকে ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতায় ফেরার পথে অনেকখানি এগিয়ে দিল, যা দলটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যারিকের পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করেছে। অন্যদিকে চেলসির জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আশা প্রায় ফিকে হয়ে আসছে।
এই ব্যর্থতা কোচ রোজেনিওরের ভবিষ্যতের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত নয়। তবে গ্যালারিতে চেলসি সমর্থকদের ক্ষোভ এখন চরমে, ক্লাবের মালিকপক্ষ থেকে শুরু করে কোচ ও খেলোয়াড়- সবার ওপরই ঝরছে তাদের আক্রোশ।
অথচ ম্যাচের শুরুটা চেলসির জন্য সম্ভাবনাময় ছিল। ক্লাবের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এনজো ফার্নান্দেজ ফিরলেও প্রতিপক্ষ ইউনাইটেড ছিল ইনজুরি ও নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত। হ্যারি ম্যাগুয়ার, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ইয়োরো এবং ডি লিটকে ছাড়া ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ ছিল ছন্নছাড়া। রক্ষণে ১৯ বছর বয়সি তরুণ এইডেন হেভেনকে সঙ্গ দিতে হয়েছিল মূলত ফুলব্যাক হিসেবে খেলা নুসাইর মাজরাউইকে।
চেলসি পুরো ম্যাচে ২১ বার শট নিয়েছে, দুবার বল লেগেছে গোলপোস্টে, আর একটি গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডের কারণে। এত আক্রমণের মুখেও টিকে ছিল ইউনাইটেড। বিশেষ করে তরুণ হেভেন এবং মাজরাউই যেভাবে রক্ষণ সামলেছেন তা ছিল দেখার মতো। এটি ছিল গত ২২টি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে ইউনাইটেডের মাত্র দ্বিতীয় ‘ক্লিন শিট’।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত ক্যারিক বলেন, ‘ওরা দুর্দান্ত খেলেছে। ওদের ওপর আমাদের আস্থা ছিল এবং দল হিসেবে আমরা ওদের বাড়তি সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ছেলেরা যেভাবে প্রতিকূলতা সামলে নিয়েছে তা গর্ব করার মতো।’
ইউনাইটেডের রক্ষণে সমস্যা থাকলেও আক্রমণে ছিলেন লিগের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তার দারুণ এক পাস থেকেই প্রথমার্ধের ঠিক আগে গোলটি করেন কুনহা। এই মৌসুমে এটি ব্রুনোর ১৮তম অ্যাসিস্ট, যা প্রিমিয়ার লিগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২০টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছাকাছি। ম্যাচ শেষে চেলসির অবস্থা বেশ করুণ।
১৯৯৮ সালের পর টানা তিন ম্যাচে তারা কোনো গোল না করে হারল। গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল ‘আমরা আমাদের চেলসিকে ফেরত চাই’ স্লোগান। মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ সমর্থক। হতাশ রোজেনিওর বলেন, ‘এটি মেনে নেওয়া খুব কঠিন। তারা মাত্র একটি শট নিয়েছে এবং গোল পেয়েছে। আমরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখালেও গোল করতে পারিনি।’