যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজই (মঙ্গলবার) একটি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী হলেও, তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কোনো হুমকির মুখে তারা আলোচনায় বসবে না।
দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পথে রয়েছে বলে জানা গেছে। খবর আলজাজিরার।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও অন্যতম আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ জোর দিয়ে বলেছেন, একের পর এক হুমকির মুখে কোনো আলোচনা মেনে নেবে না তার দেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, অবরোধ আরোপ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চাইছেন। আলোচনায় ব্যর্থতা এলে সামরিক কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, যেকোনো অর্থবহ সংলাপের ভিত্তি হলো প্রতিশ্রুতি রক্ষা যা ওয়াশিংটন মানবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেআইনি আচরণ’ ও পরস্পরবিরোধী অবস্থানকে কূটনীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তেহরান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে, চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি দাবি করেন, অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের পক্ষে সামলানো কঠিন হবে।
ফক্স নিউজের বরাতে জানা যায়, ট্রাম্প আজই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আশাবাদী। তিনি পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগকে আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সফল হলে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের ইচ্ছার কথাও জানান।
হোয়াইট হাউজের সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এর আগে প্রথম দফার আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
এদিকে হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও চাপ-প্রতিপ্রচাপের এই আবর্তে দ্বিতীয় দফার আলোচনা আদৌ কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।