ইরানের ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত কোথায়? কার নিয়ন্ত্রণে যেতে পারে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দখলে নিতে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই ধরনের সামরিক অভিযান অত্যন্ত

2026-04-21T15:20:53+00:00
2026-04-21T15:20:53+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত কোথায়? কার নিয়ন্ত্রণে যেতে পারে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২০ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দখলে নিতে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই ধরনের সামরিক অভিযান অত্যন্ত জটিল, দীর্ঘমেয়াদি এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি এই কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অবস্থান ছিল- তেহরানের কাছে যেন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে এবং তারা যেন অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। যদিও একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, তবুও গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।

Advertisement
ইরান দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক এবং জ্বালানি উৎপাদনের জন্য। তবে বাস্তবে তারা প্রয়োজনীয় সীমার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। ইরান পূর্বে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমাতে রাজি হলেও পুরো কর্মসূচি বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে— এটিকে তারা জাতীয় সার্বভৌমত্বের অংশ হিসেবে দেখে।

২০১৫ সালে জয়েন্ট কম্প্রেহিনসিভ প্লান অব অ্যাকশনের চুক্তির মাধ্যমে বরাক ওবামা প্রশাসন ইরানসহ বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। এতে ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজিরও বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে। এছাড়া ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৩০০ কেজি, ৫ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৫.৫ টন এবং ২ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ২.২ টন ইউরেনিয়াম মজুত আছে বলে ধারণা করা হয়।
সংস্থাটির সদস্য রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দ্রুত ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় স্তর।

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের সঠিক অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২২ সালে ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নজরদারি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশনের ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি।

তবে ধারণা করা হয়, উল্লেখযোগ্য অংশ ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্র এবং ফোর্দ পরমাণু কেন্দ্র মজুত থাকতে পারে। এসব স্থাপনা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আগে ইরান সম্ভবত উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইসফাহানে সরিয়ে নেয়। স্যাটেলাইট চিত্রে বিশেষ কন্টেইনার বহনকারী ট্রাকও দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে গভীর ভূখণ্ডে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় ধরে একটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ধ্বংসস্তূপ সরানো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকা- সব মিলিয়ে এটি প্রায় অসম্ভব একটি মিশন। এছাড়া ইউরেনিয়ামটি ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড গ্যাস আকারে সংরক্ষিত। এটি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং দুর্ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের রাসায়নিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে। এটি ধ্বংস করা হলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি তৈরি হবে, আর সরিয়ে নেওয়া হলেও পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া সব মজুত সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করাও কঠিন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউরেনিয়াম ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান পুরোপুরি বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক এবং পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করুক। অন্যদিকে ইরান বলছে, তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবে এবং কোনো অবস্থাতেই ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই স্পষ্টভাবে বলেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো তাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে রাশিয়া ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে। 

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এটিকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে উল্লেখ করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। অপরেদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, তারা চাইলে ইরানের ইউরেনিয়াম অপসারণে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

১৯৯৪ সালে প্রেজেক্ট সাপিয়ার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র কাজাখস্তান থেকে প্রায় ৬০০ কেজি অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেয়। তবে সেটি ছিল সম্পূর্ণ সমন্বিত ও শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ।

/কহু

  বিষয়:   ইরান  যুক্তরাষ্ট্র  রাশিয়া  ইউরেনিয়াম 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: