নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচন আট বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিনিধিদের দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যক্রম।
এ পরিস্থিতিতে আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য সিনেট অধিবেশনের আগেই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ১৯৭৩ অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ওই নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট মোট ৯৩ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত, যার মধ্যে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ক্যাটাগরি থেকে ২৫ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিনিধিদের নিয়েই সিনেট সভা পরিচালিত হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের নির্বাচনের আগে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের শেষ দিকে আবারও তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণ হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর বিষয়টি আরও স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমানে নিবন্ধনসংক্রান্ত ওয়েবসাইটের ডোমেইন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট নিবন্ধন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক কার্যনির্বাহী সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রশাসন নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী সিনেট অধিবেশনের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সিনেটে আর কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিনিধি রাখা হবে না।
জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং দ্রুত কার্যক্রম শুরু হবে।
এ বিষয়ে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নয়, বরং সবার মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই